• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

প্রচার থমকে থাকলেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে বাইডেনের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০

image

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থমকে গেছে। তবে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে চালানো এক জরিপে এমন আভাস পাওয়া গেছে। রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসসের দু’দিন করা এক জরিপে ৪৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেলে তারা বাইডেনকেই সমর্থন দেবেন। অপরদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেয়েছেন মাত্র ৪০ শতাংশের সমর্থন।

চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার ১ হাজার ১১৪ নিবন্ধিত প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের ওপর এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর আগে ৬ থেকে ৯ মার্চ হওয়া একই রকম অন্য একটি জরিপে বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মঙ্গলবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ বার্তা সংস্থাটি বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেও বাইডেনের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। অপরদিকে ভাইরাস মোকাবিলায় পাদপ্রদীপের আলোয় থেকেও ট্রাম্প তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারছেন না।

গত ডিসেম্বরে শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৮৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৪ হাজার।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় দেশটির প্রসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচার থেমে আছে। বাইডেনকেও নানান কর্মসূচি ও অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছে। অনেক অঙ্গরাজ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রাইমারি ও ককাসও স্থগিত করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে রয়টার্স/ইপসসের জরিপে ট্রাম্পের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তার নেয়া পদক্ষেপের পক্ষেও অনেকের সমর্থন দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেয়া ৪৪ শতাংশই ট্রাম্পের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নেয়া পদক্ষেপ সমর্থন পেয়েছে ৪৮ শতাংশের।

শুরুর দিকে ট্রাম্প করোনাভাইরাসের ভয়াবহতাকে বেশি গুরুত্ব দেননি। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা তার কাছে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্য সহযোগিতা চাইলেও তিনি তাতে তেমন সাড়া দেননি। বরং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাশ কাটিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ইস্টারের আগে যেসব শহরে লকডাউন আছে, তা খুলে দেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। যদিও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটে ভাইরাসটির সংক্রমণ কমিয়ে আনতে বিধিনিষেধগুলো এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন ট্রাম্প ।

জরিপে করোনাভাইরাস যে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে, তারও আঁচ মিলেছে। এতে অংশ নেয়া ৮৯ শতাংশ বলেছেন, তারা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি নিয়ে ‘ব্যাপক’ কিংবা ‘একরকম’ উদ্বিগ্ন।

২৬ শতাংশ জানিয়েছেন করোনার কারণে তারা চাকরি হারিয়েছেন কিংবা বাধ্যতামূলক অবৈতনিক ছুটি দেয়া হয়েছে। এ সংখ্যা আগের সপ্তাহে করা একইরকম অন্য আরেকটি জরিপের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি। মানুষজনকে ঘরবন্দি রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেয়া নির্দেশনা মানতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আনছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এই প্রাপ্তবয়স্করা।