• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

সিএএবিরোধী বিক্ষোভ

দিল্লিতে নজিরবিহীন সংঘাত

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের সহিংস হামলা থেকে সৃষ্ট সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান নিয়ে টানা দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন স্থানীয় নারীরা। গত তিন দিন ধরে চলে এ বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় এছাড়াও কমপক্ষে ৭০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। এ হতাহতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই রয়েছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। এমন পিরিস্থতির জেরে গতকাল দিল্লিতে সেনা মোতায়েন করা হয়। এদিকে উত্তেজনা নিরসনে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিটিভি, আল-জাজিরা, এএফপি।

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী দিল্লিতে গত তিন ধরে চলা এ বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় গতকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে সোমবার ওই সহিংসতা আরও জোরালো হয়ে উঠলে এক পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে চারজন নিহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর কোন উসকানিমূলক বক্তব্য না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লির সঙ্গে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যের সীমান্ত পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সিএএ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থানের কারণে বন্ধ হওয়া সড়ক কর্তৃপক্ষ খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এর পর গত শনিবার রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রোস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জবাবে পরদিন রোববার বেলা ৩টায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মৌজপুর চকে সিএএ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। হিন্দু জাতীয়তাবাদী এ নেতার এমন উসকানির পর সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়। এসময় স্থানীয় মুসলিমদের মসজিদসহ দোকানে তা-ব চালালে হতাহত হয় বহু মানুষ। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। টানা তিন দিন ধরে নজিরবিহীন সংঘাতের পর দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর প্রচুর সদস্য নগরীর দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে।

সম্প্রচার মাধ্যমটির টেলিভিশন প্রতিবেদনের বরাতে দেশটির অপর সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার সকালে নগরীর চান্দবাগ এলাকায় সিএএ’র সমর্থক ও এ আইনের বিরোধীদের পরস্পরের দিকে পাথর নিক্ষেপের মধ্যেই সিআরপিএফ ও দিল্লি পুলিশের বহু সদস্য সেখানে অবস্থান নিয়েছে। এদিন সকালে দাঙ্গা কবলিত অন্য এলাকায়ও পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী অবস্থান নিয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। নগরীর দাঙ্গা কবলিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এসেছে। গতকাল বুধবার সকালে এ এলাকাগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। সকালে এক টুইটার বার্তায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরিস্থিতিকে ‘ভয়ানক’ বলে বর্ণনা করে দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে আশু সেনাবাহিনী মোতায়েন ও কারফিউ জারি করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতভর কেজরিওয়ালের বাসভবনের সামনে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এ সময় তারা সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য দিল্লি পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

এর আগে মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় দিল্লির মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, দিল্লিতে এমন সহিংসতা গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। উত্তেজনা যেন না ছড়ায়, সেজন্য বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে সংঘাতের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে সাবধান করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপি সরকার বিতর্কিত সিএএ পাস করার পর থেকে ভারতের মুসলিমরা ক্ষোভে ফুঁসছে। এ আইন বাতিলের দাবিতে নানা কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছিল তারা।

বিশ্লেষকদের অভিমত, এমন পরিস্থিতি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। কেননা ট্রাম্পের সফর চাপা পড়ে যাচ্ছে সহিংসতার খবরের কাছে। নিহতদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত চারজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার জন্য পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় সোমবার দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবারও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ ও শিব বিহার স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

কয়েক দফায় মন্ত্রিসভার বৈঠক

এদিকে ভয়াবহ এ সহিংসতার রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল ২৪ ঘণ্টায় তিনটি বৈঠক করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির আইপিএস কর্মকর্তা এসএন শ্রীবাস্তব। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার পর মঙ্গলবার তাকে বিশেষ পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারপরও সেখান থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসে। এক আদেশে গত তিন দিনে রাজধানীর সহিংসতায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন দিল্লির হাইকোর্ট।