• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

জাতিসংঘের নেতৃত্বে লিবিয়ার দুইপক্ষের আলোচনা শুরু

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বে আলোচনা শুরু করেছে দেশটিতে যুদ্ধরত দুইপক্ষ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত সোমবার এ আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছে জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যের সরকারের (গভর্মেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড বা জিএনএ) পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশটির বিদ্রোহী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী এলএনএর নিযুক্ত পাঁচ প্রতিনিধি। লিবিয়ায় চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করতে ১৯ জানুয়ারি জার্মানির রাজধানী বার্লিনে একদিনের শান্তি সম্মেলন আয়োজন করেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ওই সম্মেলনে তুরস্ক, ফ্রান্সসহ ১২টি আঞ্চলিক দেশ লিবিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে একমত হয়। এছাড়াও জাতিসংঘের নেতৃত্বে লিবিয়ার ঐক্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও সম্মতি আসে ওই সম্মেলনে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার শুরু হওয়া বৈঠক তদারকি করছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ঘাসান সালামে। একই দিন (সোমবার) জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত মাসে বার্লিন সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দশ সদস্যের ‘লিবিয়ার যৌথ সামরিক কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। এ কমিশন দুইপক্ষের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করবে।

প্রসঙ্গত, জীবনযাপনের মানের দিকে থেকে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া এক সময় আফ্রিকার শীর্ষে ছিল। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ছিল পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা এ ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন সংঘাত। গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি মনোনীত সরকার রয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষকে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার (জিএনএ) নামে অভিহিত করা হয়। তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রয়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলে জিএনএ’র কর্তৃত্ব থাকলেও পূর্ব ও দক্ষিণের বেশিরভাগ অঞ্চল সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল হাফতারের অনুগত বাহিনী এলএনএ’র দখলে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এ বাহিনী লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে লিবিয়ায় দুটি সরকার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পরিচালিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। তুরস্কের সমর্থনও এ সরকারের প্রতি। আর দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পরিচালিত জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন অপর সরকারটিকে সমর্থন দিচ্ছে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। রাজধানী ত্রিপোলির দখল নিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে অভিযান জোরালো করেছে হাফতার বাহিনী।