• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

চীনে বন্যপ্রাণীর ব্যবসা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের দাবি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বন্যপ্রাণীর ব্যবসা নিষিদ্ধ করতে চীনের প্রতি অ্যাক্টিভিস্টদের আহ্বান জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা অ্যাক্টিভিস্টরা দেশটির প্রতি স্থায়ীভাবে এ ব্যবসা নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। জীবিত প্রাণীর বাজার থেকে মানবদেহে নতুন ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাদের এমন দাবি জোরালো হচ্ছে। বিবিসি।

সংবাদ সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ভাইরাস যেন আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ব্যবসা স্থগিত করেছে বেইজিং। তবে সংরক্ষণবাদীরা মনে করছেন, শুধু এই পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। তাদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হলে তা মানুষের স্বাস্থ্যজনিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী চোরাকারবার থামাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঐতিহ্যগতভাবে দেশটিতে খাবার হিসেবে বিভিন্ন রকম বন্যপ্রাণীর চাহিদা রয়েছে। ফলে সেখানে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের নিয়ে বাণিজ্য বেড়েই চলেছে।

সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎস : মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের ৭০ শতাংশের বেশি ধরনের সংক্রমণই বিভিন্ন প্রাণী থেকে, বিশেষ করে বন্যপ্রাণী থেকে শুরু হয় বলে প্রতীয়মান হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন করোনাভাইরাস বাদুড় থেকে ছড়ানোর বড় একটি আশঙ্কা রয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আগে এ ভাইরাস অন্য কোনও অচেনা প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ও মিডল ইস্ট রেস্পিরেটরি সিনড্রোমের (মার্স) পেছনে থাকা ভাইরাসও বাদুড় থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। তবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আগে সেগুলো সিভেট জাতীয় বিড়াল এবং উটের মধ্যে ছড়ায় বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডক্টর বেন এমব্রেক বলেন, ‘এমন ধরনের বন্যপ্রাণী ও তাদের বাসস্থানের সংস্পর্শে আমরা আসছি, যেগুলোর সঙ্গে একসময় মানুষের কোনও সম্পর্কই ছিল না। হঠাৎই আমরা এমন সব ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছি যেগুলো আমাদের জন্য একেবারেই নতুন।’ তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অচেনা এসব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর পরজীবীর কারণে অনেক রকম নতুন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে।

ভূ-পৃষ্ঠে থাকা প্রায় ৩২ হাজার জাতের মেরুদণ্ডী প্রাণী সম্পর্কে এক গবেষণায় জানা যায়, এসব প্রাণীর ২০ শতাংশই বৈধ বা অবৈধভাবে বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী বাজারে বেচাকেনা হয়ে থাকে। সংরক্ষণবাদী গ্রুপ ডব্লিউডব্লিউএফের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাজারে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। মাদক ব্যবসা, মানব পাচার ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের পরই এটি বিশ্বব্যাপী অবৈধ ব্যবসার তালিকায় চতুর্থ।