• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

করোনার টিকা উদ্ভাবনে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের তৎপরতা

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০

image

প্রাণঘাতী ও মারাত্মক ছোঁয়াচে নভেল করোনাভাইরাসের আগ্রাসী থাবা স্তব্ধ করে ফেলেছে বিশ্বকে। চীনের পর ইউরোপ-আমেরিকা মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ এ মহামারীতে এখন মৃত্যুপুরী। এখনও এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দুটি পরীক্ষামূলক টিকা উন্নয়নের কাজ শুরু করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। বিবিসি।

সংবাদ মাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মার্কিন কোম্পানি ইনিওভিও ফার্মাসিউটিক্যালের প্রস্তুতকৃত এসব টিকাকে প্রাণীদেহে পরীক্ষায় ছাড়পত্র দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা এখন এ টিকার কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করার লক্ষ্যে মানুষের ওপর তা কাজ করে কিনা, তা দেখবে। বিবিসি জানিয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের ওপর এ টিকা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে অন্য প্রাণীর দেহে পরীক্ষার আগেই মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়।

করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিসরো) বলছে, তাদের টিকাই প্রথম, যেখানে পূর্ববর্তী ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হবে। গবেষকরা বলছেন, করোনার টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে যে মাত্রায় ও দ্রুতগতিতে সহযোগিতা চলছে তা অভূতপূর্ব। গতকাল বৃহস্পতিবার সিসরো’র বিজ্ঞানী ড. রব গ্রেনফেল বলেন, ‘এ পর্যায়ে পৌঁছাতে সাধারণত দুই বছর সময় লাগে। আর আমরা প্রকৃতপক্ষে এখন তা কয়েক মাসের মধ্যে নামিয়ে এনেছি।’

গত কয়েক দিনে সিসরোর বিজ্ঞানীরা এ টিকার নমুনা লোমযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে দেখেছেন যে, মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এ টিকাতেও তাই ঘটেছে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষার ফলাফল পেতে আগামী জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সফল হলে তা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য যাবে।

এর আগে বুধবার কোভিড-১৯ চিকিৎসা বা প্রতিরোধে ‘খুবই কার্যকর’ অ্যান্টিবডির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে চীনা গবেষকদের বরাতে এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চীনা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বুধবার কোভিড-১৯ চিকিৎসায় চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্ভাব্য ওষুধ খুঁজতে গিয়ে কার্যকর অ্যান্টিবডি পেয়েছে। আলাদা করে ফেলা এসব অ্যান্টিবডি নতুন করোনাভাইরাসকে কোষে প্রবেশে বাধা দেয়ায় ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাজধানী বেইজিংয়ের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাং লিংকি জানিয়েছেন, তার দলের সন্ধান পাওয়া অ্যান্টিবডি দিয়ে তৈরি ওষুধ বর্তমান পদ্ধতির চেয়ে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিকে তিনি ‘বর্ডারলাইন’ (সীমান্তরেখা) বলছেন। এর আগেও এ রকম প্লাজমা (রক্তরস) পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন এ বিজ্ঞানী। গত জানুয়ারির শুরুতে এ গবেষক দলটি শেনঝেনে থার্ড পিপল হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের রক্তে অ্যান্টিবডি বিশ্লেষণ শুরু করেন। এরপর তারা ২০৬টি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি আলাদা করেন। যার ভাইরাসের প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হওয়ার একটি জোরালো ক্ষমতা রয়েছে।

এ অ্যান্টিবডি আলাদা করার পর দলটি আরও একটি পরীক্ষা চালায়। এতে অ্যান্টিবডিগুলো ভাইরাসকে কোষে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারে কি-না, তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রথম ২০ বা এর বেশি অ্যান্টিবডির মধ্যে চারটি অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে আবার দুটি খুব ভালোভাবে কাজ করছে। এরপর গবেষকরা সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিবডিটি শনাক্ত করেন। একইসঙ্গে আলাদা করা অ্যান্টিবডিগুলো সংযুক্ত করে করোনাভাইরাসের পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে চেষ্টা করছেন।