• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

আল-আকসায় ফের প্রবেশে বাধা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদ থেকে ফের মুসলমানদের বের করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় তারা মুসল্লিদের ওপর টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী হাজার খানেক ইহুদিকে জোরপূর্বক আল-হারাম আল-শরিফে প্রবেশ করায়। মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে এ অভিযানের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইসরায়েলি সেনারা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মারধরও করে। আটকও করা হয় কয়েকজনকে। আল-জাজিরা

আল-আকসা মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের এ অংশটি দেশটির পশ্চিম তীর শাসন করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, সেনাদের এই আগ্রাসনের পুরোটা দায় নিতে হবে ইসরায়েল সরকারকে। একই সঙ্গে আল-হারাম আল-শরিফে ইহুদিদের জোরপূর্বক প্রবেশকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও দেখছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি হামলার আগে কয়েকজন ফিলিস্তিনি যুবক তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছিল।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামাস। একইসঙ্গে হামলা ঠেকাতে সব ফিলিস্তিনিদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছে তারা।

সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পর মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ। খিস্টপূর্ব ১০০৪ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন হজরত সোলায়মান আলাইহি ওয়াসাল্লাম। দুটি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে প্রকাশ পেয়েছে নির্মাণশৈলীর এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি।

বিভিন্ন সময়ে মসজিদটি সংস্কারে ব্যবহার করা হয় মার্বেল, স্বর্ণসহ নানা ধরনের মূল্যবান ধাতু ও পাথর। এটিকে মুসলমানদের পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদিরাষ্ট্র ইসরায়েল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে, আল-আকসা মসজিদ দখল করে নেয় দেশটি। এরপর থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দখলদার বাহিনী। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর আল-আকসা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েল। এমনকি ১৯৬৯ সালে পবিত্র মসজিটিতে অগ্নিসংযোগও করেছিল দখলদাররা। এরপর নানা বিধিনিষেধ আর শর্ত পূরণের মাধমে সেখানে ইবাদতের সুযোগ পেতেন সাধারণ মুসল্লিরা।

এরপরও কয়েকবার বিভিন্ন অজুহাতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদ ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্ধ করে দেয়। ২০০৩ সালে জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দেয় ইসরায়েল।

ইহুদিদের কাছে এই স্থানটি টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, এর নিচেই রয়েছে তাদের দুটি প্রাচীন মন্দির। অন্যদিকে খ্রিস্টানরাও আল-আকসা মসজিদের স্থাপনাকে তাদের পবিত্র স্থান হিসেবে দাবি করে আসছে।