• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

আক্রান্তের শীর্ষে যুক্তরাজ্য মৃত্যুতে ইন্দোনেশিয়া

ভারতে হ্রাস পাচ্ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

image

কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা এক ব্যক্তর করোনা পরীক্ষা করছেন -সিএনএন

চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর হিসেবে শীর্ষে আছে যুক্তরাজ্য, অন্যদিকে প্রাণঘাতী এ রোগে মৃতের হিসেবে শীর্ষে আছে বর্তমানে করোনার এশীয় কেন্দ্র (এপিসেন্টার) হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দেশ ইন্দোনেশিয়া। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারস এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে ওয়ার্ল্ডওমিটার্সের চার্ট আরও বলছে- বিশ্বজুড়ে কমছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত দু’দিন ধরে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ২৮৯ জন এবং মারা গেছেন ৬ হাজার ৭০০ জন। এর আগের দিন প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৩ জন এবং ওই দিন করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৭ হাজার ১৯১ জন।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ৪২ হাজার ৮৭৪ জন এবং মৃতের সংখ্যা কমেছে ৪৯১ জন। তারও আগের দিন, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৯ জন এবং এ রোগে ওই দিন মারা গিয়েছিলেন ৮ হাজার ৬৩৬ জন।

অন্যদিকে, এশিয়ায় করোনার এপিসেন্টার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইন্দোনেশিয়ায় ঘটেছে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা। এ দিন দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৯৩ জন এবং এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৭২১ জন।

২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থনে যৌথভাবে আছে ব্রাজিল ও ভারত। যুক্তরাজ্য-ইন্দোনেশিয়ার মতো চিত্র দেখা গেছে এ দুদেশের ক্ষেত্রেও; অর্থাৎ, আক্রান্তের হিসেবে এগিয়ে আছে ভারত, মৃত্যুর হিসেবে ব্রাজিল।

ওয়ার্ল্ডওমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ১২৬ জন এবং এ রোগে এ দিন দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯৩৯ জনের। এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা দেশটির নাম রাশিয়া। বিশ্বের বৃহত্তম দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ১৮ জন এবং মারা গেছেন গেছেন ৭৬৪ জন।

মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৭ জনের। তবে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬ জন এবং মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৭ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরে সাধারণভাবে এই ভাইরাসটি পরিচিতি পায় নতুন বা নভেল করোনাভাইরাস নামে। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছে উহানেই। চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তখন জানানো হয়েছিল, ‘অপরিচিত ধরনের নিউমোনিয়ায়’ আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় অবশেষে ওই বছর ১১ মার্চ করোনাকে মহামারী ঘোষণা ডব্লিউএইচও।

এদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিপর্যয় ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে ভারত। দেশটিতে প্রতিদিন কমছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হ্রাস পাচ্ছে এ রোগে মৃত্যুহারও। এনডিটিভি

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিন অনুযায়ী, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৭৯ জন এবং এ রোগে এদিন মৃত্যু হয়েছে ৪৯৯ জনের।

তার আগের দিন ভারতে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ১৫১ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ৫১৮ জন।

অন্যদিকে একই সময়সীমার মধ্যে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ১৯ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১০৪ দিনে ভারতে করোনায় সর্বনি¤œ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, গত ৫ দিন ধরেই দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০-এর নিচে আছে। মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২২৯ জন এবং বর্তামানে দেশটিতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ৬৩২ জন, শতকরা হিসেবে যা মোট আক্রান্ত রোগীর ১.৩৫ অংশ। এছাড়া, মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৪ লাখ ১৪ হাজার ১৪৪ জন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিপর্যয়ের মধ্যেও অবশ্য দেশটিতে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা যথেষ্ট।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৮ হাজার ৫২৯ জন এবং মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ৭৬২ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত টানা ২৮ দিন ধরে ভারতে করোনা শনাক্তের শতকরা হার ৫ শতাংশের নিচে আছে। বর্তমানে এই হার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে দেশটিতে। শতকরা হিসেবে বর্তমানে এই হার ৯৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।

গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে দেশটিতে শুরু হয়েছে গণটিকাদান কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত ৪০ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ টিকা ব্যবহার করা হয়েছে।