• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

দেশে করোনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড মৃত্যু ৪০ জন

নতুন আক্রান্ত ২,৫৪৫

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২০

image

দেশে করোনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ৪০ জনের প্রাণ গেছে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা ৬৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৫ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৫৩ জনে। এটিই এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ২২৯টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৩০টি। সুস্থ হয়েছেন আরও ৪০৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ৯ হাজার ৭৮১ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাসবিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অতিরিক্তি মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা ও করোনা মোকাবিলার পরিকল্পনায় ভুল থাকায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। চিকিৎসাসেবায় নানা অব্যবস্থাপনা, নমুনা পরীক্ষা ও সংগ্রহে অব্যবস্থার কারণে অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার পর কম সময়ের মধ্যে ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা এখনও পর্যাপ্ত করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েও জানতে পারছেন না তিনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২,২২৯টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ২,৫৪৫ জন ও মারা গেছেন ৪০ জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা যত বেশি হবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী তত বেশি শনাক্ত হবে। দেশে কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হওয়ার প্রায় ৩ মাস পূর্ণ হচ্ছে কয়েকদিন পরই। অথচ এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় নমুনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। সব জেলায় নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাব নেই। দেশের আনাচে-কানাচে ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। মানুষ নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে পদে পদে নানাভাবে অপদস্ত হচ্ছে। চেষ্টা করেও নমুনা পরীক্ষা করাতে পারছে না। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগে দোকানপাট খুলে দেয়া, মানুষকে চলাফেরা করতে দেয়া, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার মাশুল হচ্ছে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত হওয়া। ঈদের ছুটিতে ব্যক্তিগত গাড়িতে মানুষকে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ দেয়ার নামে ঢাকা থেকে মানুষ দলে দলে যেভাবে গ্রামে গিয়েছেন এবং গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছেন এর জন্য আগামী জুন মাসে আমাদের জন্য করোনা বড় ধরনের ধাক্কা নিয়ে আসছে। তা সামাল দেয়া কতটুকু সামর্র্থ্য রয়েছে তা দেখার বিষয়।

বুলেটিনে বলা হয়, নতুন যুক্ত দুটিসহ মোট ৫২টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ২২৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনার উপস্থিতি পাওয়া দুই হাজার ৫৪৫ জনের দেহে। এটি এ যাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।

বুলেটিনে বলা হয়, নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব ৫ জন, চশ্লিশোর্ধ্ব ১১ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৮ জন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব ৪ জন মারা গেছেন। ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভা?গে ৮ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনার সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৩৯১ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৪ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১২৬ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩০০টি। আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১১২টি। হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৯৪৭ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ১৭২ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৯১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৬০ হাজার ১৮১ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে।