• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবন ১৪২৮ ১৮ জিলহজ ১৪৪২

করোনা সংক্রমণ

শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২০

image

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় উন্নতির পরিবর্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। ইতোমধ্যে করোনা ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের ২১৫ দেশের মধ্যে শীর্ষ বিশ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম পর্যায়ে উঠে এসেছে। করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ৩ মাসের মাথায় ২০তম বাংলাদেশের নাম তালিকায় আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন মহল। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ নম্বরে রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়াল্ডোমিটারের ওয়েবসাইটে গতকাল করোনা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তালিকা ২০ নম্বরে প্রকাশ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় বিশ্বের ১ নম্বরে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাম। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিলের নাম। এভাবে তৃতীয় রাশিয়া, ৪র্থ স্পেন, ৫ম ইউকে, ৬ষ্ঠ ইতালি, ৭ম ভারত, ৮ম জার্মানি, নবম পেরু, ১০ম তুর্কি, ১১তম ইরান, ১২তম ফ্রান্স, ১৩তম চিলি, ১৪তম মেক্সিকো, ১৫তম সৌদি আরব, ১৬তম কানাডা, ১৭তম পাকিস্তান, ১৮তম করোনার উৎপত্তিস্থল চীন, ১৯তম কাতার এবং ২০তম বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

ওয়াল্ডোমিটার নামের এ জরিপ সংস্থা করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আক্রান্ত দেশগুলো নিয়ে কাজ করছে। প্রতিদিন আক্রান্ত দেশে রোগী শনাক্ত, প্রাণহানি, সুস্থতাসহ সব ধরনের ডাটা আপডেট করে প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের ২১৫ দেশের নাম তালিকা করা হয়েছে ওয়াল্ডোমিটারের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তালিকায়।

ওয়াল্ডোমিটারের জরিপের তথ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২১৫টি দেশের মধ্যে তালিকার প্রথম থেকে ২০ নম্বর পর্যন্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত করোনায় আকান্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ২৫ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২১৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ১২ হাজার ৪৩৬ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ লাখ ২ হাজার ৬১৩ জন। এভাবে দ্বিতীয় থাকা ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৪ জন। মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৭২ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৭ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৪ ৮৫ জন। তৃতীয় থাকা রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৪ জন মারা গেছেন ৫ হাজার ৫২৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ১২ হাজার ৬৮০ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ৬২৬ জন। ৪র্থ থাকা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪০ জন। মারা গেছেন ২৭ হাজার ১৩৩ জন।

তালিকায় ৫ম থাকা ইউকেতে ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৬১ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ৩৯ হাজার ৯০৪ জন। ৬ষ্ঠ থাকা ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৩৩ হাজার ৬৮৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৯৫ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ৩৮ হাজার ৪২৯ জন। ৭ম থাকা ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ লাখ ৯ হাজার ৫৯৪ জণ। মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৮১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৮৬৬ জন। এখনও আক্রান্ত আছেন ১১ লাখ ৩ হাজার ৩৪৭ জন। ৮ম থাকা জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯২৩ জন। মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৩৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ জন। ৯ম থাকা পেরুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৮ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৫ হাজার ৩১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭৬ হাজার ২২৮ জন।

১০ম থাকা তুর্কিতে আকান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪১০ জন। মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩০ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৭১ জন। ১১তম থাকা ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৫৬ জন। মারা গেছেন ৮ হাজার ১৩৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৩১ জন। ১২ তম থাকা ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪ জন। মারা গেছেন ২৯ হাজর ৬৫ জন। ১৩তম থাকা চিলিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৩৫৬ জন। ১৪তম থাকা মেক্সিকোতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৮০ জন। মারা গেছেন ১২ হাজার ৫৪৫ জন। ১৫তম স্থানে থাকা সৌদি আরবে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৪৮ জন। মারা গেছেন ৬৪২ জন। ১৬তম থাকা কানাডায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ হাজার ৭২৬ জন। মারা গেছেন ৭ হাজর ৬৩৭ জন। ১৭তম থাকা পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ২৪৯ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ১৯ নম্বরে থাকা কাতারে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ হাজার ৪৯৫ জন। মারা গেছে ৪৯ জন।

তালিকায় ২০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯১ জন। মারা গেছেন ৮১১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৮০৪ জন। আক্রান্ত আছেন ৪৬ হাজার ৭৭৬ জন।

ওয়াল্ডোমিটারের জরিপ অনুযায়ী, এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে করোনা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ নম্বরে রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা ঝুঁকিতে শীর্ষে অর্থাৎ ১ নম্বরে রয়েছে ভারতের অবস্থান। এভাবে দ্বিতীয় তুর্কি, তৃতীয় ইরান, ৪র্থ সৌদি আরব, ৫ম পাকিস্তান, ৬ষ্ঠ করোনার উৎপত্তিস্থল চীন, ৭ম কাতার, ৮ম বাংলাদেশ, ৯ম সিঙ্গাপুর, ১০ম ইউএই, ১১তম কুয়েত, ১২তম ইন্দোনেশিয়া, ১৩তম ফিলিপাইন, ১৪তম আফগানিস্থান, ১৫তম ইসরাইল, ১৬তম জাপান, ১৭তম ওমান, ১৮তম বাহারাইন, ১৯তম কাজাকিস্তান, ২০তম আরমেনিয়া, ২১তম সাউথ কোরিয়া, ২২তম ইরাক, ২৩তম মালয়েশিয়া, ২৪তম এজার বাইজান, ২৫তম স্থানে তাজিকিস্তান, ২৬তম স্থানে উজবেকিস্তান, ২৭তম স্থানে থাইল্যান্ড, ২৮তম স্থানে নেপাল, ২৯তম স্থানে খারজেজিস্তান, ৩০তম স্থানে মালদিভেজ, ৩১তম স্থানে শ্রিলঙ্কা, ৩২তম স্থানে লেবানন, ৩৩তম স্থানে হংকং, ৩৪তম স্থানে সাইপ্রাস, ৩৫তম গর্জিয়া রয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আক্রান্ত হওয়া, মৃত্যু ও সুস্থতার পরিসংখ্যা অনুযায়ী এশিয়ার ৪৯টি দেশের তালিকা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ৮২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার ৩৯১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস ধরা পড়লো। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩০ জন। সব মিলিয়ে দেশে কোভিড-১৯ রোগে মারা যাওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১১। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ৩ জন আক্রান্তের মধ্যে ২ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী ছিলেন। তারা সবাই ইতালী প্রবাসী ছিলেন। ইতালি থেকে আক্রান্ত হয়ে তারা দেশের বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা নগন্য হলেও হঠাৎ করে ঢাকা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে গার্মেন্ট ছুটি দেয়ার পর গ্রামমুখো হয় গার্মেন্টস কর্মীরা। ওইসময় অন্য পেশাজীবী মানুষও গ্রামে ছুটতে থাকে। আবার গার্মেন্ট চালু হলে গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মানুষ ফেরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এমনকি মাছ-তরকারী এবং পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে লুকিয়ে ঢাকায় ঢুকতে থাকে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষের ঢাকায় আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ব্যর্থতার কারণে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়তে থাকে। শনাক্তের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৫০০-র বেশি হতে থাকে। এভাবে হঠাৎ করে রোজার শেষ দিকে শনাক্ত ও প্রাণহানি বাড়তে থাকে। ঈদের আগে মার্কেট খুলে দেয়া, যাববাহন চলতে দেয়া এবং ঈদের পর সাধারণ ছুটি বাতিল করে সবকিছু খুলে দেয়ার ঘোষণায় আগের মতো প্রকাশে মানুষের চলাফেরা শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের চলাচল করোনা সংক্রমণ আরও নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি করোনায় চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, সাংবাদিকস, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্নœ শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে আক্রান্ত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে করোনায় এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২০ জনেরও বেশি চিকিৎসক। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ১৭ জনের মতো। সাংবাদিকদের মধ্যে ১ হাজারের মতো আক্রান্ত হয়েছেন মারা গেছেন ৫ জনের বেশি সাংবাদিক। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা, সাবেক এমপিসহ অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। সংক্রমণ পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঘনবসতির দেশ বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত। চিকিসাৎ ব্যবস্থা, করোনার নমুনা সংগ্রহ ও রোগী শনাক্ত থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রমে চরম অবব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। ৩ মাসে সঠিক কোন পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয়নি করোন মোকাবিলায়।