• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ২৭ রমজান ১৪৪২

শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

দেশে শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। ছয় বছরের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে ৬ শতাংশ। বর্তমানে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছে, যা ২০১৩ ছিল ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ।

গতকাল আগারগাঁওয়ে বিবিএস সম্মেলন কক্ষে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯’ শীর্ষক জরিপটি জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সহযোগিতায় চালানো হয়। বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, বিবিএস উপ-মহাপরিচালক সুব্রত ঘোষ, পরিচালক মো. মাসুদ আলম, ইউনিসেফের কর্মকর্তা অ্যালেইন বালানডি ডমসাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লালনপালনকারীদের মাধ্যমেই শিশুরা সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছে বেশি। জরিপে এসেছে দেশে ১৫ বছরের নিচে প্রতি ১০ জনের ৯ জন শিশুই তাদের অভিভাবক বা সেবা প্রদানকারীদের দ্বারা কোন না কোনভাবে সহিংসতার শিকার হয়। সারাদেশে ২৪ হাজার ৬০০ শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সহিংসতার এই তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে গত ছয় বছরে নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের শতকরা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বাসায় রয়েছে কম্পিউটার। দেশের শতকরা ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এছাড়া শতকরা ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন রয়েছে। বর্তমানে দেশে নারীদের শিক্ষার হার বেড়ে ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়। ছয় বছর আগের জপিপে এ হার ছিল ৮২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আরও দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। শিক্ষা ও খাবার পানির গুণগতমান, শিশু বিয়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত সুরক্ষামূলক বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশে শিশু অপুষ্টির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু বেড়েছে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন। ৩৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে শৈশবকালীন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তুলনামূলক কম। এ সংখ্যা গড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ সালে যা ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ে স্কুলে উপস্থিতির হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও এখনও ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে।

জরিপে জানানো হয়, পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ছয় দশমিক আট শতাংশ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। স্কুলে যাওয়া শিশুদের তুলনায় এ হার বেশি। শিক্ষা শেষ না করে ঝড়ে পড়ার হারে প্রতি পাঁচজনের একজনই ছেলে। একইসঙ্গে গ্রামে শিশুদের বিয়ে এখনও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতি হলেও শিশুদের পুষ্টির হার ভালো নয়।

মাসুদ আলম জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ জুনের মধ্যবর্তী সময়ে ৬১ হাজার ২৪২টি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। সহিংস আচরণ হিসেবে শুধু মারধর নয়, হাল্কা বকাবকি কিংবা ধমককেও আমলে নেয়া হয়েছে।