• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

লকডাউন বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত

জেলায় গণপরিবহন চলবে বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ থাকবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ-ট্রেন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১

image

চলমান লকডাউনে রাজধানীর গতকালের সড়ক চিত্র -সংবাদ

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ৬ মে থেকে জেলায় জেলায় গণপরিবহন চলবে কিন্তু বন্ধ থাকবে আন্তঃজেলা গণপরিবহন ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রসঙ্গ টেনে এক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করার কথা জানিয়েছেন সচিব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মিটিং হয়েছে। সেখানে সুপারিশ করা হয়, আজকে সেই বিষয়ে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত দিয়েছে- আজকে থেকে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ম্যাজিস্ট্রেট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তারা দেশের প্রত্যেকটি মার্কেট সুপারভাইস করবে। কোন মার্কেটে লোক হয়তো কন্ট্রোল করা যাবে না কিন্তু মাস্ক ছাড়া যদি বেশি লোকজন ঘোরাফেরা করে প্রয়োজনে আমরা সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। ক্লিয়ারলি এটা বলে দেয়া হয়েছে।’

মানুষকে মাস্ক পরাতে সরকার ‘কঠোর অ্যাকশনে’ যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দোকান-মালিক সমিতির সভাপতি ওনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ওনারা নিজেরাও এটা সুপারভাইস করবেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সিদ্ধান্ত হয়েছে, লকডাউন যেটা আছে, ঈদ তো ১৪ তারিখ, ১৬ মে পর্যন্ত এভাবে কনটিনিউ করবে। আর গণপরিবহন জেলার ভেতর চলাচল করতে পারবে, ৬ মে থেকে চলবে। এক জেলার বাস আরেক জেলায় চলবে না। লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকবে।’ তাতে ঈদে বাড়ি ফেরায় ভোগান্তি বাড়বে কিনা- এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ঈদে সরকারি ছুটি তো তিন দিন, এর মধ্যে দুইদিন পড়েছে শুক্র ও শনিবার। তিন দিনের বাইরে কোন ছুটি দেয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৮টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে সাতদিন করে দু-দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৫ মে (বুধবার) মধ্যরাতে।এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতোই বন্ধ আছে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে। শুরুতে লকডাউনে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও ‘জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে’ গত ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সড়ক, নৌ ও রেলপথে দূরপাল্লার যাত্রী বহন বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতোমধ্যে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত দেশগুলো বাদে অন্য সব গন্তব্যে ‘কঠোর শর্তসাপেক্ষে’ নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।