• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ২৭ রমজান ১৪৪২

মুশফিকের ডাবল ও মোমিনুলের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ে কোণঠাসা

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ডাবল সেঞ্চুরির পর মুশফিক

সংক্ষিপ্ত স্কোর : জিম্বাবুয়ে ২৬৫ ও ৯/২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ৫৬০/৬ ডিক্লে.

শুরুটা করেছিলেন নাঈম হাসান ও আবু জায়েদ রাহী। বাংলাদেশ সফরে আসা জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৬৫ রানে আটকে দিয়েছিলেন দুই বোলার। তিন উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার সময়ে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশের অধিনায়ক মোমিনুল হক গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিনে তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম তথা অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার সময়ে মোমিনুলের পার্টনার মুশফিকুর রহিম ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত থেকেছেন তৃতীয় দিনেও। ব্যাটসম্যানদের টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ের কারণে জিম্বাবুয়ের চেয়ে ২৯৫ রানে এগিয়ে থেকে ছয় উইকেটে ৫৬০ রানে প্রথম ইনিংসের ইতি টানে বাংলাদেশ দল। প্রায় তিনশ’ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৯ রান তুলতেই দুই ব্যাটসম্যান হারিয়েছে সফরকারীদল। সব মিলিয়ে শেরে বাংলা টেস্টে কোণঠাসা জিম্বাবুয়ে।

মুশফিক মোমিনুল গতকাল মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে যেন ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস ফিরিয়ে আনার ইশারা দিলেন। সেবার সিলেট টেস্টে পরাজিত হওয়া জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট ২১৮ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই টেস্টেও যে মোমিনুলের সেঞ্চুরির সঙ্গে ছিল মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি।

গতকাল সকাল থেকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মোমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। দিনের প্রথম সেশনেই ক্যারিয়ারের ৯ম এবং অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন মোমিনুল হক। এজন্য তিনি খেলেছেন ১৫৬ বল, হাঁকিয়েছেন ১২টি বাউন্ডারি। ততক্ষণে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৯৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিকও। দুপুরের আহারে যাওয়ার সময়ে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক মাঠে ফিরেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরি। এই পথে ১৮টি বাউন্ডারির মারে খেলেছেন তিনি ১৬০ বল।

মোমিনুলের বিদায়ে ভাঙে ২২২ রানের চতুর্থ উইকেটের পার্টনারশিপ। ২৩৪ বলে ১৪ বাউন্ডারিতে ১৩২ রানের ইনিংস খেলে এনডিলভুকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন টাইগার দলপতি। এর মধ্য দিয়ে চলতি টেস্ট শুরুর আগে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সেঞ্চুরি হাঁকানোর প্রতিশ্রুতিটাও পূরণ করেন তিনি।

মুশফিক এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। এর মাঝে মোহাম্মদ মিঠুন ১৭ রানে আউট হয়ে যান। লিটন দাসের সঙ্গে জুটি জমে ওঠে মুশফিকের। ৯৫ বলে ৫৩ রান করে লিটন আউট হলে অবসান হয় ১১১ রানের জুটির। লিটন ফেরার সময়ে ১৮৯ রানে থাকা মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোটা ক্রিজে দাঁড়িয়ে দেখেছেন তাইজুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছতে মুশফিক খেলেছেন ৩১৫ বল, হাঁকিয়েছেন ২৮টি বাউন্ডারি। চলতি ম্যাচের আগ পর্যন্ত তার সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ২১৯ রান। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তিনি ইনিংসটি খেলেছিলেন। তার ডাবলের পর সোমবারই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরিটাও এসেছে কাটশটে বাউন্ডারির মারে। দুইবারই বোলারটি ছিলেন এন্ডিলোভু। ৫৬০ রানে টাইগার দলপতি মোমিনুল হক ইনিংস ঘোষণার সময়ে মুশফিক অপরাজিত থাকেন ২০৩ রানে। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে।

প্রতিপক্ষের এক ইনিংসে ২৯৫ রানের লিড মাথায় নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে খেই হারায় জিম্বাবুয়ে। দিনের শেষ সময়টা উইকেটে টিকে থাকা খুব কঠিন ব্যাপার। এই সুযোগটা নিতেই হয়তো তড়িঘড়ি ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে ঘূর্নিবলে চার উইকেট শিকারী নাঈম হাসান আবারও আঘাত হেনেছেন প্রতিপক্ষের ওপর। পতন ঘটা দুটো উইকেটই লেখা হয়েছে তার নামের পাশে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই প্রিন্স মাসভাউরেকে (০) তুলে নেন নাঈম হাসান। পরের বলেই ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান ডোনাল্ড তিরিপানো (০) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও সেটা না পাওয়ার কষ্ট হয়তো নাঈমের ততটা নেই। দল যে ভালো অবস্থানে। অনেকদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেটে দিশেহারা বাংলাদেশ দল ছন্দে ফিরেছে। টানা একটা ঘুম দিয়ে আজ ঝরঝরে শরীর ও মন নিয়ে জিম্বাবুয়ের ওপর টাইগাররা হামলে পড়তেই পারেন। দেখা যাক কী হয়।