• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জেল-জরিমানা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২০

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে প্রশাসন। বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় মাস্ক পরিধানসহ অন্য স্বাস্থবিধি মেনে না চললে ছয় মাসের করাদ- ও ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় মাস্ক পরিধানসহ অন্য স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে, অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ ( ২০১৮ সালের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ২৪(১), ২ ও ধারা ২৫(১), (ক, খ) এবং ধারা ২৫(২) অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালীন জনসাধারণ এবং সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এছাড়া রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি ব্যতিত কোনভাবেই বাইরে যাওয়া যাবে না। তবে সর্বাবস্থায় বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ জননিরাপত্তা বিভাগের আওতাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও বিধিসমূহ কঠোরভাবে প্রতিপালন করা এবং মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে নির্দেশনা দিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং ব্যাপক বিস্তার রোধে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ১১ মে’র স্মারকে ১৩টি এবং ২৫ মে’র স্মারকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবাসিক স্থাপনায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনের লক্ষ্যে দুটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৮ মে স্মারকে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ১৫টি শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলী চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৮ মে’র প্রজ্ঞাপনে শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলী এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সীমিতকরণ করা হয়েছে। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রতিপালন ও অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ বা প্রতিপালন না করা ওই আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ।এদিকে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(১)-এ বলা আছে, যদি কোন ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটতে সহায়তা করেন বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোন ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তার কাছে গোপন করেন তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ।

২৪ (২) বলা আছে যদি কোন ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব-১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

একই আইনের ২৫(১) (ক, খ) এ বলা আছে- মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। ২৫(২) তে বলা আছে, যদি কোন ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।