• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

লকডাউনের তৃতীয় দিনও মানুষের চলাফেরা

বাজারে অলিগলিতে উপেক্ষা

জেল-জরিমানায়ও কাজ হচ্ছে না

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

image

লকডাউন উপেক্ষিত, বাজার ও অলি-গলিতে তৃতীয় দিনও ব্যারিকেড ডিঙিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন নওয়াবপুর এলাকার লোকজন -সংবাদ

মহামারী করোনা ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের তৃতীয় দিনেও রাস্তায় চোখে পড়েছে মানুষের নির্বিঘœ চলাফেরা এবং আড্ডাবাজি। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সর্বত্র মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার বন্ধের দিন হলেও মানুষের অবাধ চলাফেরা কমেনি। বরং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মানুষ নিত্যপণ্য কেনার অজুহাতে বাজার, মার্কেট ও দোকানগুলোতে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। লকডাউন কার্যকর এবং মানুষের অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও কোন প্রভাব পড়েনি। মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করে নির্বিঘেœ চলাফেরা করছে। জরিমানা, জেল দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। এ অবস্থায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। কোন কোন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় ছিল এর উল্টো চিত্র। অর্থাৎ চেকপোস্ট থাকলেও মানুষ চলাচলের সময় পুলিশ মুভমেন্ট পাস আছে কিনা তা তল্লাশি করা হয়নি।

গতকাল ছিল লডডাউনের তৃতীয় দিন। শুক্রবার হওয়ায় রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচল অন্য দুই দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। আগের দিনের মতোই বাস ছাড়া অন্য সব যানবাহন চলাচল করেছে রাজধানীতে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষ নিত্যপণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। গতকাল সকাল থেকে জুম্মার নামাজের আগ পর্যন্ত হাঁটবাজারগুলোতে মানুষের যে পরিমাণ ভিড় চোখে পড়েছে তাতে লকডাউন চলছে বলে মনেই হয়নি। সরেজিমেন খিলগাঁও কাচা বাজার, বাসাবো বাজার, বাসাবো বউ বাজার, রাজারবাগ, কালিবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, যাত্রাবাড়ী, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, মালিবাগ, মৌচাক, বংশাল, সরদঘাট, চকবাজার, নয়াটোলা, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, ধানমন্ডি, রামপুরা, বনশ্রীসহ রাজধানীর সব এলাকায় অলিগলিতে মানুষের নির্বিঘœ চলাফেরা চোখে পড়েছে। কোন প্রয়োজন নেই তবুও মানুষ রাস্তায় জুম্মার নামাজের জন্য বের হয়েছে জানিয়ে চলাফেরা করেছেন। সরেজিমেন দেখা গেছে, ছুটির দিন হওয়ায় রাজপথে গাড়ি কম থাকলেও লোকজনের চলাফেরা কম ছিল না। রাজধানীর চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা বসে থাকলেও চেকপোস্ট ক্রস করে যাতায়াতকারীদের পুলিশ মুভমেন্ট পাস আছে কিনা অথবা ওই চলাচলকারী ব্যক্তিরা জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত কোন প্রতিষ্ঠানের কিনা তা জানতে চাওয়া হয়নি। অধিকাংশ পুলিশকে চেকপোস্টের ডিউটিতে থাকলেও চেয়ারে অথবা সড়কের পাশে বসে ছিল তবে কোথাও কোথাও যানবাহন দেখে সন্দেহ হলে চালকদের সঙ্গে জেরাও করেছেন তারা। গতকাল জুম্মার নামাজের পর খিলগাঁও কাঁচবাজারে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সড়কের ওপর ইফতারি পণ্য, ফলের পসরা সাজিয়ে বিক্রি চলছে অবাধে। এসব ফলের দোকানকে ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। খিলগাঁও কাঁচাবাজারেও কেনাকাটার জন্য ক্রেতারা ভিড় করেছেন।

প্রতক্ষ্যদর্শীদের মতে করোনার সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের তৃতীয় দিনে শুক্রবার সকালে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। আর ভিড় দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতেও। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে একদিকে রোজার প্রথম শুক্রবার, তাই লকডাউন থাকার পরও গতকাল বাজারে কিছুটা ভিড় হয়েছে। অনেকেই মাস্ক পরে থাকলেও অধিকাংশের মুখে মাস্ক পরা ছিল না। আবার অনেকে মুখ থেকে মাস্ক নামিয়ে গলায় বা থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছে। গতকাল সকালের দিকে সড়কগুলো ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোতে বেশকিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পান্থপথ, প্রগতি সরণি, ভাটারা ও নতুন বাজারে। মোহাম্মদপুরের টাউন হল মার্কেটে সকাল থেকে নামাজের আগ পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় ছিল। নামাজের সময় ভিড় কিছুটা কমে যায়। কিন্তু দোকানগুলো খোলা ছিল। বাজারে আসা বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরে থাকলেও শারীরিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি কাউকে।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম লকডাউন নিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লকডাউন যেটা দেয়া হয়েছে, সেটা ভালো কাজ করবে না। ‘সাতদিনের লকডাউন হয় না। লকডাউন করতে হয় এজন্য যে, সংক্রমিত একজন যেন অন্য কারও সঙ্গে মিশতে না পারে। কিন্তু সেটা কী আদৌ হচ্ছে? সেটা না হলে লকডাউনের কোন মানে নেই। লকডাউনের কথা শুনে সবাই ঢাকা ছাড়ল। কেউ আইসোলেশনে রইল না। নতুন ভ্যারিয়েন্ট এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি মানুষের চলাচল হবে, তত বেশি সংক্রমণ বাড়বে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে চলাচল কম করতে হবে, এক জেলা ০েথকে আরেক জেলায় যাওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত জায়গায় লকডাউন হলে সংক্রমণের হার কমবে।

এদিকে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে। ডিউটি করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। ওয়ারী বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন ১৪ ও ১৫ তারিখ ১ম ও ২য় রোজা। দুদিনই ভোর ৬টা থেকে বিকেল প্রায় ৬টা পর্যন্ত প্রখর রোদে সশরীরে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় সরকার নির্দেশিত সপ্তাহব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের উদ্দেশে দায়িত্ব পালন করেছি। বিচিত্র অভিজ্ঞতা। মধ্যবিত্ত আর দরিদ্ররা জীবিকার প্রয়োজনে কোন বিধিনিষেধ মানতে চায় না। রাস্তা খালি পেয়ে প্রেমিক জুটিগুলা বিভিন্ন বাহানায় মোটরসাইকেলে জোড়ায় জোড়ায় ঘুরতে চায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা বেশি শিক্ষিত, বড় বড় সরকারি-বেসরকারি অফিসার আর বড় বড় গাড়ির মালিক শিল্পপতি, উনারা গাড়ির গ্লাসই খুলতে চায় না। এমন অনেকে পুলিশকে ঝাড়ি দেয়া থেকে শুরু করে ভিন্ন ভাষার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখাতেও চায়। এক ভদ্রলোক সার্ভিং অফিসার পরিচয় দিয়ে উচ্চবাচ্যও করেছে। জিজ্ঞেস করলাম এই গাড়ি সরকারি না, কার এটা? (উনি যে পরিচয় দিয়েছেন, গাড়ি ব্যবহার করছেন অন্তত ৩ ধাপ ওপরের অফিসারের)। এরপর উনি টোন-ডাউন করেন। বলেন, আমি অবসরপ্রাপ্ত, গাড়ি অমুকের, আইডি কার্ড দেখালেন একটা টিভি চ্যানেলের। শিশু হাসপাতালের এক ডাক্তার খুব উস্কানিমূলক আচরণ করলেন। উনার গাড়ি কেন সিরিয়ালে পড়েছে। যদি সিরিয়াল ৫ মিনিটে শেষ না হয়, উনি অফিসে যাবেন না, এই দায় পুলিশের। আইডি দেখতে চাইলাম। না দেখিয়েই কাকে যেন ফোন করে বলতে শুরু করলেন, অনেক ঝামেলা করছে পুলিশ, অফিসে হয়তো আসা হবে না। কল শেষ না হতেই উনার গাড়ি এসে গেল। চলে গেলেন। একটা বড় জিপ গাড়ি। বলল সিটি গ্রুপের। আইডি চাইলাম, দেখাবে না। বড় জিপ, বলল ফকির গ্রুপের, আইডি নাই। দেখানোর মতো কিছুই নাই। একটা আইপি টিভির গাড়ি, বলল ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই, গাড়ির কোন কাগজও নাই। কয়েকটা গাড়িতে ২/৩টা মন্ত্রণালয়ের স্টিকার দেয়া। পাওয়া গেল ব্যক্তিগত গাড়ি। পহেলা বৈশাখে ছুটির দিনে ব্যাংকে যাচ্ছে! একলোক নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরা যাচ্ছে ভাইয়ের বাসায় ইফতার করতে, যাবেই। ব্যাপক অভিজ্ঞতা।’

রোজার প্রথম জুম্মায় মসজিদে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

এদিকে লকডাউনের তৃতীয় দিনে রমজান মাসের প্রথম জুম্মা ছিল গতকাল। ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে মসজিদে জুম্মা এবং তারাবি নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন করে মুসল্লি নিয়ে নামাজ পড়ানোর ঘোষণা ছিল। কিন্তু গতকাল জুম্মার নামাজে মসজিদগুলোতে সেই চিত্র দেখা যায়নি। রাজধানীর প্রত্যেক এলাকায় মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। অনেক এলাকায় মসজিদে জায়গায় না হওয়ায় রাস্তায়ও মানুষকে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, নামাজ শেষে মুসল্লিরা জমায়েত করে আড্ডা দিচ্ছেন। বাইতুল মোকাররম মসজিদেও ছিল মুসল্লিদের ভিড়। যদিও অনেক মসজিদে নামাজের সময় কিছুটা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজের কাতার করা হয়েছিল কিন্তু অধিকাংশ মসজিদে ছিল সামাজিক দূরত্ব। গত বছরের মতো এবারও করোনা মহামারীতে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায়ের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন অংশ নিতে পারবেন। তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন এবং জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নেবেন।

ইফতারির অজুহাতে রাস্তায় মানুষ

এদিকে লডডাউনের তৃতীয় দিনে নিত্যপণ্য ছাড়াও ইফতারি পণ্যের অজুহাতে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়েছে। নির্বিঘেœ চলাফেরা করেছে। লকডাউনে যেখানে ঘর থেকে বের হওয়া নিরুৎসায়িত করা হয়েছে সেখানে ইফাতারি কেনার অজুহাতে পুরান ঢাকায় চলছে মানুষের উৎসব। পুরান ঢাকার চানখারপুল মোড় থেকে মাক্কুশা মাজার পর্যন্ত নাজিমুদ্দিন রোডের দু’পাশে দোকান, ফুটপাতে টেবিল এবং ভ্যানে হরেক রকমের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। দোকানগুলোতে ইফতারি কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে লকডাউন চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরান ঢাকার মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডে দিন-রাত মানুষের চলাচল থাকে। গতকালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছেন। তবে অধিকাংশ মানুষের মুখেই মাস্ক ছিল। দোকানগুলোতে দুপুরের পর থেকে ইফতারির আগ পর্যন্ত উপচেপড়া ভিড় ছিল। একজনকে ঠেলে অন্যজন ইফতারি নিচ্ছেন। কেউ দরদাম করছেন। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম পরিস্থিতিতে দোকানিরাও রয়েছে। এ দৃশ্য গত ৩ দিন ধরে চললেও দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা জানান, শুধু ইফাতারি কেনার জন্যই যে মানুষ বের হচ্ছে তা নয়, নানা কাজে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হচ্ছে। লকডাউন মানতে চায় না অনেকেই। মহল্লা থেকে শুরু করে অলিগলিতে আড্ডা চলছে। দোকানদার অর্ধেক শাটার খুলে রেখেছেন। মানুষ আসছে কেনাকাটা করছে। সরেজমিন দেখা গেছে, লকডাউনের তৃতীয় দিনে ইফতারি কিনতে রাস্তায় জনসমাগম বেড়েছে। রাজধানীর সব এলাকায় অলিগলি ও মহল্লায়, ফুটপাতে বসেছে ইফতারির দোকান। এসব দোকানকে ঘিরে মানুষের ভিড় ছিল। কেউ ইফতারি কিনতে কেউ বিক্রি দেখতেও ভিড় জমিয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযান

সর্বাত্মক লকডাউনের তৃতীয় দিন গতকাল রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পৃথক ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে হোটেলে বসিয়ে খাবার পরিবেশন, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং অনুমোদনবিহীন দোকান খোলা রাখায় মোট ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ডিএসসিসির আঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (আনিক) মেরিনা নাজনিন সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭, পান্থপথ, সোনারগাঁও রোড, বেইলি রোড ও মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। ধানমন্ডি ২৭-এ বিকেল তিনটার পরও একটি চশমার দোকান খোলা রাখায় তিন হাজার টাকা, বিনা কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ায় মালিককে এক হাজার টাকা এবং বেইলি রোড এলাকায় অনুমোদনবিহীন ফুটপাতের ওপর জিলাপি ভাজা ও বিক্রির দায়ে এ-ওয়ান বেকারিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অঞ্চল-২ এর আনিক সুয়ে মেন জো-এর তত্ত্বাবধানে ফকিরাপুল বাজার, মুগদা কাঁচাবাজার, ওয়াসা বাজার ও মান্ডা মেইন রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক না পরায় ১০ ব্যক্তিকে সাময়িক সময় আটকে রেখে পরবর্তীতে তাদের মাস্ক পরিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় শারীরিকভাবে অক্ষম এমন আরও কয়েকজনকে মাস্ক পরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা এবং অননুমোদন ছাড়া দোকান খোলা রাখায় প্রায় ১০০ ব্যক্তি ও দোকানকে সতর্ক করা হয়। অঞ্চল -৬ এর আনিক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার নগরীর নন্দীপাড়া বাজার এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লকডাউনে সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ করেন। এছাড়া সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অঞ্চল-৬ এর ডেমরা, সারুলিয়া, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার ও বনশ্রীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা না মানায় তিনটি মামলায় ৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, ডেমরা, কোনাপাড়া, শনির আখড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশ ভঙ্গ করে বেলা ৩টার পরও দোকান খোলা রাখা, হোটেলে বসিয়ে লোকজনকে খাবার পরিবেশন করা, সরকারঘোষিত অনুমোদিত দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকান খোলা রাখায় আদালত ৫টি মামলা দায়ের এবং সর্বমোট ১৯ হাজার টাকা অর্থদ-ে দ-িত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বেলা ৩টার পরও দোকান খোলা রাখায় শতাধিক দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবীর ত্রপা অঞ্চল ৩-এর আওতাধীন মৌলভীবাজার, চকবাজার ও ইসলামবাগ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা না মানায় দুই মামলায় এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণ লকডাউন মেনে চললেও দুই-এক জায়গায় সরকারি নির্দেশ ভঙ্গ করে হোটেলে বসিয়ে লোকজনকে খাবার পরিবেশন করা, বেলা ৩টার পরও দোকান খোলা রাখা এবং অননুমোদিত দোকান খোলা রাখায় ৫টি মামলা দায়ের করেছি। এসব মামলায় ১৯ হাজার টাকা অর্থদ- আদায় করা হয়েছে।’