• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

বরিশালে অরক্ষিত করোনা ওয়ার্ড

রোগীরা বাইরে যাচ্ছেন ওষুধ-খাবার কিনতে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না করায় ও সরবরাহকৃত খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা অবাধে হাসপাতালের বাইরে যাতায়াত করছেন। যেসব রোগীর সঙ্গে কোন আত্মীয়স্বজন নেই তারা বাইরের দোকানে গিয়ে ওষুধ ও খাবার ক্রয় করছেন। এতে এইসব রোগীদের দ্বারা হাসপাতালে আসা অন্যান্য রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালের খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের। খাবার ও ওষুধ কিনে এনে দেয়ার মতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাউকে নিযুক্তও করেনি। তাই যেসব রোগীদের সঙ্গে কোন স্বজন নেই তাদের বাধ্য হয়েই বাইরে যেতে হয়। আবার এই সুযোগে করোনায় আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন রোগী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের এক ব্যবসায়ীর পরিবারের চার সদস্য করোনায় আক্রান্ত। গত ২১ জুন ঢাকার আইইডিসিআর থেকে করোনা পরীক্ষার পজেটিভ রিপোর্ট আাসর পরপরই ওইদিন রাতে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ওই ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও পুত্র। পরিবারের অপর সদস্য একমাত্র মেয়ের করোনা পজেটিভ হলেও কোন উপসর্গ না থাকায় তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে ওই পরিবারের গৃহকত্রী বলেন, আমার মেয়ের কোন উপসর্গ না থাকায় তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাড়িতে অক্সিজেন সাপোর্ট পেলে আমরা তিনজনও হাসপাতালে আসতাম না।

হাসপাতালে এসে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। হাসপাতালের খাবার মুখে নেয়ার মতো নয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে পরেরদিন (২২ জুন) সকাল পর্যন্ত কোন খাবার আমাদের পেটে যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও এমন কোন লোক নেই যাদের বাইরে পাঠিয়ে খাবার ও ওষুধ আনাবো। তাই বাধ্য হয়েই ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে আমার করোনা আক্রান্ত ছেলেকে বাইরে পাঠিয়ে খাবার এবং ওষুধ আনানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পরবর্তীতে ডা. মনীষা চক্রবর্তী তাদের জন্য কিছু খাবার পাঠিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখানে সহসা কোন চিকিৎসক বা নার্স রোগীদের কাছে আসেন না। ওয়ার্ড বয়দের কাছ থেকে শুনে চিকিৎসকেরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা বাকেরগঞ্জের এক রোগীর স্বজন দানিসুর রহমান জানান, তার স্বজন করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকাকালে খাবার এবং ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীর সেবা নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের খাবার অপ্রতুল ও অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধও হাসপাতাল থেকে দেয়া হয় না। তাই করোনা আক্রান্ত হয়েও তার স্বজনকে ওয়ার্ডের বাইরের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে খাবার ও ওষুধ কিনতে হয়েছে।

শেবাচিমের সামনের একাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, তাদের দোকানে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কে করোনায় আক্রান্ত আর কে যে আক্রান্ত নয় তা তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তারা সবার কাছে পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত কেউ দোকানে আসলে তার সংস্পর্শে আরও অনেকে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা যাতে ওয়ার্ডের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বাকির হোসেন বলেন, করোনা ওয়ার্ডের রোগী পাহাড়া দেয়ার মতো আমাদের পর্যাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর জনবল নেই। তাই করোনা ওয়ার্ড পাহাড়া দেয়ার জন্য পুলিশকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ডাক্তার বা নার্সদের পক্ষেও রোগীদের পাহাড়া দেয়া সম্ভব নয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, করোনা ওয়ার্ডের রোগীদের খাবার ও ওষুধ এনে দেয়ার লোক দরকার হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করবে। বাংলাদেশের কোন হাসপাতালের রোগীকে পুলিশ পাহাড়া দেয়ার নজির নেই। শেবাচিম কর্তৃপক্ষ তাদের লোক দিয়ে করোনা ওয়ার্ড পাহাড়া দিতে পারে। হাসপাতালের রোগী পাহাড়া দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের নয়।