• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ২৭ রমজান ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত রংপুর ডাকবাংলো

ময়েজ উদ্দিনের স্মৃতিচারণ

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

শত বছরের পুরাতন রংপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এখন ইতিহাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫০ থেকে ৬০ দশকে ঢাকা থেকে রংপুর অঞ্চলে এলেই এখানে অবস্থান করতেন। অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার এখানে রাত্রি যাপন করেছেন। সেই ইতিহাসের সাক্ষী বঙ্গবন্ধুকে গাড়িতে করে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ড্রাইভার ময়েজ উদ্দিন এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি বলেছেন, একেবারে কাছে থেকে দেখা বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন অনেক স্মৃতির কথা।

শেষবার বঙ্গবন্ধু রংপুরে এলেন স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। খবর পেয়ে ময়েজ উদ্দিন তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সার্কিট হাউজে। অসংখ্য মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। হঠাৎ দেখা হয় সাবেক মন্ত্রী রংপুরের কৃতী সন্তান প্রয়াত মতিউর রহমানের সঙ্গে তাকে বলার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু ময়েজ উদ্দিনকে জড়িয়ে ধরে জানতে চাইলেন তার কুশলাদি। এরপর তাকে কেক খাওয়ানো হয়। পরে বঙ্গবন্ধু ময়েজ উদ্দিনের হাতে ৫০ টাকা দিয়ে এনডিসিকে দিয়ে বলে দিলেন তাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দিতে। এটাই শেষ দেখা ময়েজ উদ্দিনের সঙ্গে।

রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে বাস করেন মশিউর রহমানের বাড়িতে। সেখানে দুই ছেলে আর পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করছেন দীর্ঘ দিনেও তার নিজের বাড়ি করে থাকা হয়নি। ময়েজ উদ্দিন জানান, সম্ভবত স্বাধীনতা লাভের ২/৩ বছর পর থেকে বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার রংপুরে এলেন। তিনি ঢাকা মেইল ট্রেনে করে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামলেই ময়েজ উদ্দিন হুট খোলা একটি জিপ গাড়ি যার নম্বর ছিল ৭৭৭। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সোজা চলে আসতেন ডাকবাংলোতে। সেখানে ১০১ নম্বর রুমে থাকতেন বঙ্গবন্ধু। ময়েজ উদ্দিন জানান মূলত তিনি রংপুরের মশিউর রহমান যাদু মিয়ার বাড়িতে থাকতেন তার গাড়ি চালাতেন। যাদু মিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর একটা সময় খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। রংপুরে এলেই যাদু মিয়ার গাড়িতে করে ডাকবাংলোতে আসতেন। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন স্থানে যেতেন। তবে ১৯৫৮ সালের পর আইয়ুব খানের দলে যাদু মিয়া যোগ দেয়ার পর থেকে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ময়েজ উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধু রংপুরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে এলে তিনি তার বিছানা ঠিক করে দেয়া ও মাঝে মাঝে লুঙ্গি ধুঁইয়ে দিতেন। বঙ্গবন্ধু তার কক্ষের সামনে চেয়ারে বসতেন আর ময়েজ উদ্দিন ফ্লোরে বসে তার সঙ্গে কথা বলতেন, তার কথা শুনতেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি রংপুরের শহীদ জরজেস মিয়া, তাজহাট জমিদার বাড়ি, কমিউনিস্ট নেতা সুধীর শংকরের বাসায় নিয়ে গেছেন বলে তার মনে আছে। যতবার তিনি রংপুরে আসতেন তাকে বঙ্গবন্ধু ৫ টাকা করে বকশিস দিতেন বলে জানান ময়েজ উদ্দিন। ময়েজ উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত বড় মাপের মানুষ ছিলেন। তার মতো সৎ মানুষ একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশকে নিয়ে ভাবনাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। ময়েজ উদ্দিনের শেষ ইচ্ছা তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবে।

সরেজমিন জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ঘুরে দেখা গেল শত বছরের পুরনো ভবন কোন রকমে দাঁড়িয়ে আছে। ময়েজ উদ্দিন জানান, যে ঘরে বঙ্গবন্ধু থাকতেন সেই ঘরের নম্বর ১০১ এখনও ওই নম্বরই রয়েছে দেখা গেল। কথা হলো ডাকবাংলোর চৌকিদার আমিনুরের সঙ্গে তিনি জানান, তিনিও শুনেছেন বঙ্গবন্ধু এখানে এলে এই রুমে থাকতেন এখন পুরো বিল্ডিংয়ের করুন দশা রুমের ভেতরে পলেস্টার খসে পড়ছে ছাদের অবস্থাও করুণ জরুরিভাবে মেরামত না করলে যে কোন দিন ধসে পড়ে যেতে পারে বলে জানালেন তিনি।

এদিকে রংপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, তিনিও শুনেছেন জেলা পরিষদের পুরনো ১০১ নম্বর কক্ষে বঙ্গবন্ধু অনেক বার থেকেছেন। এখন এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে বলে জানালেন। তিনি জাতিকে দেশ উপহার দিয়েছেন তার জন্য পুরো দেশবাসী গর্বিত।