• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাজেদ গ্রেফতার

কারাগারে প্রেরণ যে কোন সময় ফাঁসি কার্যকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

image

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত দেশেই গ্রেফতার হয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক খুনি ক্যাপ্টেন (বহিষ্কৃত) আবদুল মাজেদ। গতকাল ভোরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ (পল্লবী থানা) এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একটি টিম। গ্রেফতারের পর আত্মস্বীকৃত এ খুনিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজাতে পাঠান। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া যে ৬ খুনি পলাতক ছিল তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ অন্যতম ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া এ খুনির ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এদিকে গ্রেফতার হওয়া কাপ্টেন আবদুল মাজেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে জারি করা রেড নোটিশ বহাল রয়েছে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়া হলে প্রত্যাহার করা হবে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা।

পুলিশের সিটিটিসি সূত্র জানায়, গতকাল ভোর আনুমানিক তিনটায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে (বহিষ্কৃত) গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি মিরপুর সাড়ে এগারো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারকের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সিটিটিসি সূত্র জানায়, করোনার কারণে সম্প্রতি সে গোপনে দেশে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে কবে তিনি দেশে এসেছেন কিভাবে এসেছেন, এসে কোথায় আশ্রয়ে ছিলেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য দেয়া হয়নি সিটিটিসির পক্ষ থেকে। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পলাতক ৬ খুনির মধ্যে ভোরে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ করোনা পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে এসেছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আত্মস্বীকৃত এ খুনির সর্বশেষ অবস্থান ভারতে থাকার তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে এ খুনিকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা ছিল। ভারতে অবস্থানকারী এ খুনি সম্প্রতি দেশে এসে আত্মগোপন করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এদিকে আবদুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এএম জুলফিকার হায়াত বেলা একটার দিকে মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই মাজেদকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজেদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুর ১২টার দিকে সিএমএম আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। মাজেদকে গ্রেফতারের বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক জহুরুল হক আদালতে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রাতে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে রিকশায় করে সন্দেহজনকভাবে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি (মাজেদ)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন, তার নাম মাজেদ। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি।

এনসিবি এ আজি মহিউল ইসলাম বলেন, মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর এখনও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি পলাতক রয়েছে। তারা হলো- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী। তারা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এই পাঁচ খুনি বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ৫ খুনির মধ্যে রিসারদার মোসলে উদ্দিনের অবস্থানও ভারত অথবা পাকিস্তানে রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে গত বছর (২০১৯) যে তথ্য দেয়া হয়, সে অনুসারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ ভারতে অবস্থান করছিলেন। আবদুল মাজেদের ভারতে থাকার তথ্য জানার পর সেদেশের সরকারের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এছাড়া অপর এক খুনি মোসলেম উদ্দিনের পাকিস্তানে থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানেও চিঠি দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। তবে তারা সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ছয় বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেয়া ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি গ্রেফতার ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের দণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাজেদের গ্রেফতার দেশবাসীর জন্য মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার। আমরা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ডাদেশ কার্যকর করার অপেক্ষায় ছিলাম তাদেরই একজন ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত থেকে তাকে হাজতবাসের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘তার স্ত্রী সানা বেগম, বাড়ি নম্বর ১০/এ, রোড নম্বর-০১, ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা। তিনি সেখানেই বসবাস করতেন। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে তার সব তথ্য ছিল।’ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সময় এই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ এবং নূর ও রিসালদার মুসলেহউদ্দিন- এই তিনজন সেখানে ছিল। আরও কয়েকজন ছিল। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনে অংশগ্রহণ করেনি, জেলহত্যায়ও অংশগ্রহণ করেছিল বলে আমাদের জানা রয়েছে। খুনের পরে সে জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক বঙ্গভবনে এবং অন্যান্য জায়গায় কাজ করেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আশা করি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তার দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে পারব। যারা এই কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের ধন্যবাদ দিয়ে আমি মনে করি, মুজিববর্ষের একটা শ্রেষ্ঠ উপহার আমরা দেশবাসীকে দিতে পেরেছি।’ তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের বদলে তাদের নানাভাবে পুরষ্কৃত করেছে এবং ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে তাদের যাতে বিচার না হয় সেই ব্যবস্থাটি পাকাপোক্ত করেছে। ‘এই খুনিকে আমরা দেখেছি সেই সরকারের আশীর্বাদে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিরত অবস্থায় ছিলেন। এরপর যখন ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তিনি আত্মগোপন করেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ছিল তাকে ধরার জন্য। আমাদের গোয়েন্দারা এবং পুলিশ বাহিনী যারা কাজে ছিল তারা ভালো করেছে বলে আমি পূর্বেই বলেছি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কমিটমেন্ট যত খুনি যেখানেই আছে আমরা সবাইকে ফিরিয়ে আনব। যেখানেই থাকুক তাদের আনার জন্য সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মাঝে মাঝে বিস্ময়ে হতবাক হই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি দেশে না ফিরতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার কোন পর্যায়ে যেত।

কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে মাজেদকে : আবদুল মাজেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। যেহেতু এ খুনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে পলাতক ছিল তাই দেশে গ্রেফতার হলেও তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল ভোরে গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম জানান, ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে নির্ধারিত সেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। মূলত করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কারা কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু সে পলাতক ছিল, দেশে গ্রেফতার হলেও সে কবে কোন দেশ থেকে দেশে এসেছে, এবং সে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত নাকি আক্রান্ত নয় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য না থাকায় তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। গতকাল পৌনে ২ টায় কারাগারে পৌঁছায় আবদুল মাজেদ।

জেলার মাহবুব বলেন, কারাগারে সব আসামির ক্ষেত্রে সতর্ক রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। সন্দেহজনক হলে আসামিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কারাগারে সব ধরনের সতর্কতা রয়েছে। যে কোন আসামি কারাগারে আসলে আগে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, পলাতক থাকা অবস্থায় আত্মস্বীকৃত এ খুনিকে গ্রেফতারে ইন্টারপোল বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা ছিল গ্রেফতারের জন্য। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছিল ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের অবস্থান ভারতে রয়েছে। কিন্তু ভারতের কোন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলসে বিষয়ে কোন তথ্য ছিল না। ক্যাপ্টেন মাজেদকে গ্রেফতারের সহযোগিতা চেয়ে এবং তার অবস্থান নিশ্চিত হতে ভারত সরকারের কাছে বহু আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে। এর মধ্যে গতকাল ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গতকার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এ সময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে কাউন্টার টেরোরিজম।