• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

প্রণোদনা প্যাকেজ সময়োপযোগী

ব্যবসায়ীরা আশাবাদী বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় অর্থনীতিবিদদের

সংবাদ :
  • সাইফুল শুভ ও রেজাউল করিম

| ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

করোনার প্রভাবে অর্থনীতির বিপর্যয় মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তবে প্যাকেজটির বাস্তবায়ন ও এর আওতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, প্রণোদনা প্যাকেজটির সঠিক বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। তবে প্যাকেজটিতে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে যা সুষ্ঠ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই অস্পষ্টতাগুলো থাকলে করোনাভাইরাসে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা হয়তো এই প্যাকেজের সুবিধা নাও পেতে পারেন।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজের আকার হবে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার মূলত চারটি কৌশল অবলম্বন করবে। কৌশলগুলো হলো, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি ও মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি। এই চারটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেয়া, ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেয়া, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম প্রণয়ন করা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। ব্যাংকগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে তারল্য সংকটের মধ্যে ঋণ দেবে কীভাবে? নিজেদের তারল্য সংকট থাকলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে খুব বেশি আগ্রহী হবে না।’

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘সরকারের প্রণোদনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এত বিশাল তারল্য এই মুহূর্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে আছে কিনা। সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এই টাকা ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দিতে হবে। ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন তারাও এ বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত দিতে পারছে না। সরকার শুধু এসব ঋণের সিংহভাগ পরিশোধ করবেন। কিন্তু টাকার যোগান কিভাবে হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।’

প্রণোদনার প্রথম প্যাকেজে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণসুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেয়া। এ ঋণসুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে ক্ষুদ্র (কুটিরশিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান করা হবে। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণসুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

যেহেতু প্রণোদনার প্রথম দুটি অগ্রাধিকার প্যাকেজে বলা হয়েছে, ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দিবে। তাই প্রণোদনার সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘প্রণোদনার অর্থ কারা পাবেন এই বিষয়ে সরকার এখনও স্পষ্ট করেনি। এমনও হতে পারে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাদের পাওয়ার কথা, তারা হয়তো নাও পেতে পারেন। রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোন সম্পর্কের কারণে যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়, তারাও ঋণ পেয়ে যেতে পারেন। তাই যথাযথভাবে প্রণোদনার অর্থ বণ্টন হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।’

প্যাকেজে ?সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও প্রথম দুটি প্যাকেজে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবসায়ীদেরই দেয়া হবে। বাকি ২২ হাজার কোটি টাকায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ হলো, বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ, ‘বয়স্ক ভাতা’ এবং ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি। এতো বেশি খাতে এই টাকা বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সংবাদকে বলেন, ‘করোনা মহামারীতে সরকারের এমন একটি প্যাকেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই প্যাকেজে আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলে ভালো হতো। প্যাকেজে নিম্ন আয়ের মানুষদের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এখন ত্রাণ হিসেবে যদি তাদের এক পুঁটলিতে কিছু চাল, ডাল ও তেল দিয়ে দেই তাহলেই কিন্তু তাদের অভাব পূরণ হয়ে গেল না। জীবন ধারনের জন্য আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। তাই তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার। এছাড়াও প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থায়ন পুরোপুরি ব্যাংকনির্ভর। আর ব্যাংকের অবস্থাও এখন ভালো নয়। অধিকাংশ ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। তাই এর বাস্তবায়ন নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আবার প্রণোদনার অর্থ সুষ্ঠভাবে বণ্টন হবে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। যেমন প্যাকেজে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া হবে ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে। অর্থাৎ ব্যাংক যাকে মনে করে করবে সে ঋণ পাবে। এমনও হতে পারে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণ পাচ্ছে না। যারা আগে ঋণ খেলাপি হয়েছে আছে বা রাজনীতি ঘেষা তারাই ঋণ পাচ্ছে।’

বরাদ্দের অন্যান্য প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো। অর্থাৎ ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে যা গতকাল ইতোমধ্যেই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণসুবিধা চালু করবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। আর পঞ্চম প্যাকেজটি ইতোমধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ সংস্থানের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পৌনে ৭৩ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের মধ্যে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার অর্থায়ন করবে দেশের ব্যাংকিং খাত। প্যাকেজের বাকি ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়া হবে চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট থেকে। পাশাপাশি প্যাকেজের ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করবেন শিল্পোদ্যোক্তারা। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা কেবল আপদকালের জন্য। বিশেষ বিবেচনায় দেয়া এ প্যাকেজে সরকারের ব্যয় তেমন বাড়বে না। কারণ অধিকাংশ টাকাই আসবে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে। তাই বাজেট বাস্তবায়নে বা বাজেট ঘাটতিতে এটি কোন চাপ ফেলবে না।

এই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে ব্যাংক খাতের ওপর কতটা চাপ পড়বে- এই বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হালিক চৌধুরী সংবাদকে বলেন, ‘এতো বড় একটা অ্যামাউন্ট ব্যাংক থেকে গেলে ব্যাংকে কিছুটা চাপ তো চাপ পড়বেই। তবে খুব বড় ধরনের সমস্যা হবে না। কারণ ব্যাংকের ব্যবসাই তো হলো ঋণ দেয়া। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনে গ্রাহককে ঋণ দিবে, আবার সেটা ব্যাক নিবে। সবাই যে একই সঙ্গে ঋণ নিবে বিষয়টা এমন না। হয়তো দেখা যাবে, এক গ্রাহক ঋণ নিয়ে পরিশোধ করল, তখন আরেকজন নিল। তাহলে তো তারল্য ঠিকই থাকবে। আর ঋণের মেয়াদও স্বল্প।’

তবে প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল দেশের সব জনগণ ভোগ করতে পারবেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের সব মানুষ- কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে, কৃষক, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যে যেখানেই কাজ করেন, তারা সবাই উপকৃত হবেন। আমার বিশ্বাস, দেশের মানুষ আশাহত হবেন না। আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম, আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব। কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প, তারাও উপকৃত হবেন। বাংলার প্রতিটি জনগণকে প্যাকেজের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী সংবাদকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিশেষ ঋণ সহায়তার উদ্যোগটি ব্যবসা-বাণিজ্যকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করবে। প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সুবিধা। এযাবৎকালে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এটি সর্বোচ্চ ঘোষণা।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সংবাদকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিশাল একটি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। যদিও এই মুহূর্তে এত বড় প্রণোদনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শীমূলক সিদ্ধান্ত। সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকি করা গেলে ব্যবসায়ীরা সত্যিকারের সুফল পাবেন। পাশাপাশি সুন্দর একটি নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে কোন দুর্নীতি অনিয়ম না হয়। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার যে বিষয়টি বলা হয়েছে, এটি আরেকটু স্পষ্ট করা উচিত।’