• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

প্রণব মুখার্জির জীবনাবসান

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০

image

চলে গেলেন বাংলাদেশের দুঃসময়ের বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। গতকাল নয়াদিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রণব মুখার্জি। তার বয়স ছিল ৮৪ বছর।

দিল্লির বাসভবনে গত ৯ আগস্ট পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। যার জেরে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে। এরপর স্নায়ুঘটিত সমস্যা দেখা দেয়ায় গত ১০ আগস্ট তাকে আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিনই অপারেশন হয় তার মাথায়। এর আগে থেকেই তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার পরও অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির ক্যান্টনমেন্টের সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ছিল সংকটজনক। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাকে। কিন্তু ক্রমশই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন প্রণব মুখার্জি।

১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের বীরভূম জেলার মিরাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রণব মুখার্জি। ১৯৬৯ সালে মেদিনীপুর উপ-নির্বাচনে তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। মেদিনীপুর উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন তিনি। এতেই ইন্দিরা গান্ধীর নজরে পড়েন তিনি। প্রণব মুখার্জিকে দলে যোগদান করান ইন্দিরা। সেই বছরই রাজ্যসভার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপরও ৪ বার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।

ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর রাজীবের সঙ্গে মতানৈক্যের পর তাল কাটে। কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয় প্রণবকে। সেই সময় রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে একটি দল গঠন করেন তিনি। তবে তা তেমন সাফল্যের মুখ দেখেনি। ১৯৮৯ সালে ফের কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে বিলয় ঘটান তার দলের।

১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যার পর কংগ্রেসে ফের সক্রিয় হন প্রণব। তাকে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাও। পরে তার মন্ত্রিসভায় যোগ দেয় প্রণব মুখার্জি। নরসিংহ রায়ের মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৮৫ সালে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন প্রণব। ২০০০ সালে তাকে ফের এই পদ গ্রহণ করতে হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন তিনি। যদিও কংগ্রেস নেতাদের একাংশের মতে রাজ্যের রাজনীতিতে উৎসাহ ছিল না প্রণব মুখার্জি। তার মন পড়ে থাকত দিল্লিতে।

২০০৪ সালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর আসন থেকে জিতে প্রথমবার লোকসভায় যান প্রণব মুখার্জি। কংগ্রেসের লোকসভার নেতা নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৪ সালে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হবেন না বলে ঘোষণা করলে প্রণব মুখার্জি নাম নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। যদিও শেষ মুহূর্তে মনমোহন সিংয়ের নাম ঘোষণা করেন সোনিয়া।

২০০৭ সাল একই ভাবে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রণব মুখার্জির নাম নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে জোর আলোচনা হয়। কিন্তু তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যহতি দিতে রাজি ছিলেন না মনমোহন সিং। ফলে সেযাত্রায় রাষ্ট্রপতি হওয়া হয়নি তার। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন প্রণব মুখার্জি। ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণা করেন প্রণব। এর পর কংগ্রেসের তরফে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়। ২০০১২ সালের ২৫ জুলাই প্রথম বাঙালি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন প্রণব মুখার্জি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ সালে তাকে ভারতরতেœ ভূষিত করে কেন্দ্রীয় সরকার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও কখনও দুর্নীতি স্পর্শ করেনি প্রণব মুখার্জিকে। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় দিল্লিতে বাঙালির অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। তবে জননেতা হিসাবে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। সংসদীয় রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রথমবার জনগণের ভোটে জিতে সংসদে যাওয়ার স্বাদ তিনি পান ২০০৪ সালে। মাত্র ২ বার জনগণের ভোটে জিতে সংসদে গিয়েছেন তিনি। নিন্দুকে বলে, তার সেই জয়ের পিছনেও অধীর চৌধুরীর ভূমিকা অপরিসীম।