• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

ডাক্তারসহ সেবাদানকারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স

সংবাদ :
  • বাসস

| ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য বীমার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ প্রজাতন্ত্রের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বিশেষ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করে দেব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার হবে এই ইনস্যুরেন্স। পাশাপাশি কর্তব্য পালনকালে কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তার সার্বিক চিকিৎসা সরকার নিশ্চিত করবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ মৃত্যুবরণ করলে এই ইনস্যুরেন্সটি ৫ গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।’

এজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে তার কথা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনার বিরুদ্ধে আমরা যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি সেই যুদ্ধের সম্মুখভাগে থেকেই আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করেছেন তাই এটি আপনাদের পুরস্কার।’

তিনি বলেন, যারা করোনার শুরুর সময় সেই জানুয়ারি থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশেষ করে মার্চ মাসে দায়িত্ব পালন করেছেন কেবল তাদের জন্যই এই এই বীমা সুবিধা থাকবে।

‘সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এই করোনা আমরা মোকাবিলা করেছি বলেই পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং অন্যান্য দেশের মতো এটি এত ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হতে পারে নাই, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি একই সঙ্গে কর্তব্য পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সদের পুরস্কৃত করার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ও ইঙ্গিত দেন।

পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি এপ্রিল মাসকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে দেশবাসী এবং প্রশাসনকে সতর্ক করেন এবং খেটেখাওয়া মেহনতি মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় খাদ্য পৌঁছে দেয়াসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সাহসী স্বাস্থ্যকর্মী তাদের উৎসাহ দেয়াটা প্রয়োজন এবং এজন্য একটা বিশেষ সম্মানিও আমি দিতে চাই। সেজন্য আমি তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি এবং তালিকা করার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকেই চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন তাদের পুরস্কার প্রদান করতে হলে তালিকাটা আমার দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর করোনা আক্রান্ত হওয়া এবং এই ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পাওয়া সংক্রান্ত মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি সংবাদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং যে সব হাসপাতালে গিয়ে সে চিকিৎসাসেবা পায়নি তাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজ করেনি এবং নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য পালিয়ে গেছে এবং যেখানে রোগীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে চিকিৎসা পায়নি, অন্য সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হয়েছে তাদের জন্য এই সম্মানি বা প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। বরং ভবিষ্যতে তারা ডাক্তারি করতে পারবে কিনা সেটাই চিন্তা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই রোগী যেখানে যেখানে গিয়েছে (চিকিৎসার জন্য) সেখানে কোন কোন ডাক্তার দায়িত্বে ছিল তাদের নামটা আমি জানতে চাই। তাদের ডাক্তারি বা চাকরি করার সক্ষমতা নেই। তাদের চাকরি থেকে বের করে দেয়াটা উচিত বলে আমি মনে করি।’

তিনি ডাক্তারদের সুরক্ষায় তার সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘অ্যাপ্রোন পরে চিকিৎসা করুন। আপনাদের সুরক্ষায়তো আমরা কোন কার্পণ্য করছি না এবং ভবিষ্যতেও করব না। চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের তো দায় রয়েছে।’

একজন রোগী কেন চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে মারা যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী কেন প্রযোজনীয় চিকিৎসার অভাবে মারা গেল-প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি এ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্তারোপকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘যাদের মধ্যে এতটুকু মানবতাবোধ নেই তাদের শর্তারোপ করে কোন কাজ করার দরকার নেই। আল্লাহ না করুন দেশের তেমন খারাপ অবস্থা হয়ে গেলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডাক্তার, নার্স এনে চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ, এই ধরনের দুর্বল মানসিকতা দিয়ে কোন কাজ হবে না।’

গণভবন প্রান্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী প্রলয় সৃষ্টি করেছে। এটা এমনভাবে বিস্তার লাভ করছে যে এই ভাইরাসটি মহাবিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব?্যাপী। এটা একটা অঙ্কের মতো বা?ড়ে।

কেউ আক্রান্ত হলে সে অচ্ছুত হয়ে গেছে এমন মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে হলে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে সতর্কবাণী দিয়েছি এই সতর্কতা মেনে চলবেন। তাহলে অনেক জীবন রক্ষা পাবে।’

এ সময় খেটেখাওয়া দিন মজুর শ্রেণীর মানুষের কাজের অভাবে খাদ্যাভাবের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তাদের দোড়গোড়ায় খাবার পৌঁছে দেয়ার জন্য সব জেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সঙ্কোচে বা লজ্জায় ত্রাণ চাইতে পারেন না তাদের প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন।’

তিনি এ সময় মুজিবর্ষে সব গৃহহীনকে একটি টিনের হলেও ঘর করে দেয়ার তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ভিজিডি, ভিজিএফসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে যেসব খেটেখাওয়া লোকজন রয়েছেন তাদের সাহায্যের জন্য একটি তালিকা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে কোন ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি সবাইকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশনা প্রদান করেন।

শেখ হা?সিনা ব?লে?ন, ‘মানুষের দুর্ভোগের সময় ত্রাণ নিয়ে কেউ নয়-ছয় কর?বেন না। তাহলে কিন্তু রক্ষা পাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘নয়-ছয় করলে আপনাকে ধরা পড়তেই হবে। টাকা-পয়সা কিন্তু লুকানো যায় না। দুঃসম?য়ে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, তাকে কিন্তু আমি ছাড়ব না।’

প্রধানমন্ত্রী বাজারে পণ্য সরবরাহ সঠিক রাখার এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতেও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি তার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘সাপ্লাইটা ঠিক রাখতে হবে। মানে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসটা যেন মানুষ চাহিদামতো পায়। সেই দিকটা একটু খেয়াল রাখতে হবে। ওইটা বন্ধ করলে চলবে না। সরবরাহটা ঠিক রাখতে হবে।’

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা মতবিনিময় করেন।