• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

করোনার

কারণে এবার হজ হবে সীমিত পরিসরে

অংশ নিতে পারবেন না অন্য দেশের নাগরিকরা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

করোনা মহামারীর কারণে এবার সীমিত পরিসরে হজ আয়োজন করছে সৌদি সরকার। সৌদি আরবের বাইরে অন্য কোন দেশের নাগরিক এবার হজে অংশ নিতে পারবে না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা হজে অংশ নিতে পারবেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। এ বছর মাত্র এক হাজারের মতো মানুষ এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দেশটির হজমন্ত্রী।

এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোন দেশের নাগরিকই হজে অংশ নিতে পারবেন না। গত সোমবার রাতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা ছিল। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে ৬৪ হাজার ৫৯৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৩৭ জন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সেটি বন্ধ হয়ে গেল। নিবন্ধিত হজযাত্রীরা চাইলে তাদের টাকা ফেরত নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়। কবে থেকে টাকা ফেরত দেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে এ বিষয়ে আজ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করা হবে।

এ বিষয়ে ধর্ম সচিব মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর অন্যান্য দেশে থেকে হজে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় সৌদি আরব সরকার ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ গত সোমবার রাতে টেলিফোনে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় তারা এ বছর বাংলাদেশ তথা বাইরের কোন দেশ থেকে কোন হাজি নিতে পারছেন না। এজন্য বাংলাদেশের সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তারা।

তবে চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুক নিবন্ধিত হজযাত্রীরা চাইলে তাদের টাকা ফেরত নিতে পারবেন বলে জানিয়ে ধর্ম সচিব বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে সৌদিতে অবস্থান করছেন শুধু এমন মানুষরাই এবারের হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। টাকা ফেরত নিয়ে কোন হয়রানির সুযোগ নেই। টাকা উত্তোলনে কারও সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়টা বিশেষভাবে নজর রাখবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। যে কেউ না যেতে চাইলে টাকা ফেরত পাবেন। ব্যাংকে টাকা সঠিকভাবে গচ্ছিত আছে। হজে যেতে ইচ্ছুকদের ভয় নেই। কেউ টাকা রেখে দিলে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগামী বছর হজে যেতে পারবেন।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সৌদি আরবের নাগরিক এবং দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের নিয়ে সীমিত পরিসরে পবিত্র হজ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দেশটির হজবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ বেনতেন এ ঘোষণা দিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মাত্র এক হাজারের মতো মানুষ এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। বিশ্বের সব দেশের সব মুসলিমকেই হজ পালনের সুযোগ দিতে আগ্রহী সৌদি আরব। কিন্তু চলতি বছরের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আমাদের এই ব্যতিক্রম হজ পালনে বাধ্য করছে। এ বছর ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এ বছর বিদেশ থেকে হজযাত্রীদের আগমন নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া হজে কারা অংশ নিতে পারবেন সে ব্যাপারে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করা হবে। প্রত্যেকেই করোনাভাইরাসের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত। প্রত্যেকেই জানেন যে, বর্তমানে সব দেশ বন্ধ। হজের সময় হজযাত্রীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ার আরও ঝুঁকি রয়েছে। হজযাত্রীদের সুরক্ষাই সৌদির অগ্রাধিকারের প্রধান বিষয়।

প্রত্যেক বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অন্তত ২৫ লাখ মুসলিম পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। মক্কা এবং মদিনায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করে হজের বিভিন্ন রীতি-নীতি পালন করেন তারা। আত্মনির্ভরশীল এবং সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একবারের জন্য হলেও হজ পালন করা অবশ্য কর্তব্য। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, প্রত্যেক বছর এই হজ এবং বছরব্যাপী উদযাপিত ওমরাহ থেকে সৌদি আরব অন্তত ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর ওমরাহ পালনও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে সৌদি সরকার। আধুনিক যুগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হজে বিদেশিরা অংশ নিতে পারছেন না। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সৌদির ক্ষমতাসীন রাজপরিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর (হজ) মো. মাকসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আমাদের অফিসিয়ালি জানিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ আর হজে যেতে পারছেন না। শুধু বাংলাদেশ নয়, সৌদি আরবের বাইরে থেকে কেউ এসে হজে অংশ নিতে পারবেন না।