• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত ৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ

সংবাদ :
  • ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

নদীর তীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোগীর চিকিৎসা ও আইসোলেশন সেন্টার তৈরির জন্য ৫টি বড় আকৃতির যাত্রীবাহী লঞ্চ প্রস্তুত রেখেছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এসব লঞ্চ ঢাকা নদীবন্দরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চে ২০০টি কেবিন রয়েছে। এছাড়া লঞ্চে ফাঁকা ডেকে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে মোট ১০০০ হাজার রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সংস্থাটির সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মো. গোলাম সাদেক সংবাদকে বলেন, যেভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মানুষদের চিকিৎসাসেবা ও আইসোলেশন সেন্টার খোলার যাত্রীবাহী লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫টি লঞ্চ ঢাকা নদী বন্দরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এগুলো হলো-কুয়াকাটা-১, সুন্দরবন-৭, হাসান-হোসেন-১, পারাবত-১২ ও আওলাদ-৭ নামের এই ৫টি লঞ্চে প্রায় ১০০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া যাবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। তাদের সম্মতি পেলেই আমাদের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ১৫ জেলায় ১৬৪ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৮৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ৩৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মাদারীপুরে ১১ জন, চট্টগ্রামে ৩, কুমিল্লায় ২, গাইবান্ধায় ৫, চুয়াডাঙ্গায় ১, গাজীপুরে ১, জামালপুর ৩, শরীয়তপুরে ১, কক্সবাজারে ১, নরসিংদীতে ১, মৌলভীবাজারে ১, সিলেটে ১, রংপুরে ১ এবং ঢাকার মহানগরীর বাইরে চার উপজেলায় ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)’র সূত্র জানায়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। নদীমাতৃক জেলা বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে এখনো কোন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়নি। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ এবং মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে ‘আইসোলেশন সেন্টার’ করার ক্ষেত্রে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের সম্মতি পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেন, লঞ্চগুলোতে আইসোলেশন সেন্টার করা হলে উপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা পৌঁছায়নি, সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এ ব্যবস্থা খুবই গুরত্বপূর্ণ হবে। লঞ্চের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণে লঞ্চগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে লঞ্চগুলোকে কিভাবে নিরাপদ জায়গায় আনা যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।