• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

পূর্ব রাজাবাজারে

কঠোর লকডাউন

আটটি প্রবেশপথের ৭টিই বন্ধ জরুরি সেবায় নিয়োজিতরাই প্রবেশ করবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

image

পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন -সংবাদ

কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে। গতকাল জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ওই এলাকা থেকে কাউকে প্রবেশ ও বের হতে দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকায় রেডজোন চিহ্নিত পূর্ব রাজাবাজারে এ উদ্যোগ পরীক্ষামূলক উল্লেখ করা হলেও লকডাউন সফল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পূর্ব রাজাবাজার গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন করা হয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। লকডাউনের কারণে এলাকার আটটি প্রবেশপথের মধ্যে সাতটি পথই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র গ্রিন রোডে আইবিএ হোস্টেলের পাশের প্রবেশপথটি খোলা রাখা হয়েছে। এই পথ দিয়ে জরুরি সেবা সংস্থা ও নিত্য ণ্যের ভ্যান যাতায়াত করে। ভ্যানচালক ও বিক্রেতাদের পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী) পরানো অবস্থা প্রবেশ করানো হয়। সঙ্গে ছিল জীবাণুনাশক স্প্রের বোতল। বিষয়টি তদারকি করছেন সরকারের আইসিটি ডিভিশনের কর্মকর্তা, স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকরা। সংবাদকর্মী, চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া কাউকেই প্রবেশ বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার জনসাধারণের ভালোর জন্যই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। যদিও এলাকাবাসীর বেশ কয়েকদিন কষ্ট হবে, তবু উচিত বিষয়টি মেনে চলা বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন সফল করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল এক ভিডিওবার্তায় মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে পূর্ব রাজাবাজারকে রেডজোন থেকে গ্রিন জোনে আনতে পারব। এই কাজের মধ্যে সবার সহযোগিতা অবশ্যই দরকার। নাজনিন স্কুলে কন্ট্রোল রুম খুলেছি এবং সেখানে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য বুথ খোলা হয়েছে। অন্যান্য বুথ তিন ঘণ্টার জন্য খোলা থাকে। কিন্তু এ বুথ সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত খোলা থাকবে। যাদের করোনা উপসর্গ আছে তারা ওখানে গিয়ে টেস্ট করাতে পারবেন। জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য আমি অনুরোধ করব। লকডাউনে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। কারণ বের হলে সংক্রমিত হতে পারেন। আপনি ও আপনার পরিবার সুস্থ থাকলে শহর সুস্থ থাকবে, দেশও সুস্থ থাকবে।

পূর্ব রাজাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আটটি প্রবেশপথের মধ্যে শুধু আইবিএ হোস্টেলের পাশেরটি খোলা রয়েছে। তবে সেই পথটি দিয়েও ওই এলাকায় অবস্থানরত সংবাদকর্মী, চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া কাউকেই প্রবেশ বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না। গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার লোকজন পরিচয়পত্র নিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আসলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে দেন। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বার বার অনুরোধ করেও এলাকা থেকে বের হতে পারেননি। কর্মস্থলে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বাসায় ফিরে যান। এলাকাবাসীকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করতে কাউন্সিলরের নির্দেশে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক গতকাল সকাল থেকে কাজ করেন বলে জানান শুভ নামের এক স্বেচ্ছাসেবক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারের ভ্যান আগে থেকেই প্রস্তুত করা ছিল। সেগুলো এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।

পূর্ব রাজাবাজারে বসবাসকারী এক স্বাস্থ্যকর্মী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার জনসাধারণের ভালোর জন্যই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। যদিও এলাকাবাসীর বেশ কয়েকদিন কষ্ট হবে, তবু উচিত বিষয়টি মেনে চলা।’ তবে অন্য পেশায় কর্মরতরা কাজে যোগ দিতে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেকেই। সাইদুর ইসলাম নামের এক এলাকাবাসী বলেন, ‘অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছি। কিছুতেই বের হতে দেয়নি না পুলিশ সদস্যরা। এভাবে ১৪ দিন লকডাউন থাকলে হয়ত চাকরিটা নাও থাকতে পারে।’

মূলত কারা কারা এই মুহূর্তে এলাকা থেকে বের হতে এবং প্রবেশ করতে পারছেন, জানতে চাইলে সেখানে কর্তব্যরত শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সনজিৎ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যারা সাংবাদিক, ডাক্তার ও নার্স শুধুমাত্র তাদের বের হতে এবং প্রবেশ করতে দিচ্ছি। এর বাইরে অন্য কোন পেশার কাউকেই বের হতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু, একান্ত জরুরি প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তাদের ডিএনসিসি থেকে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। এছাড়া অন্যরা অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করতে পারবেন। প্রশিক্ষিতরা বাসায় সেসব নিত্যপণ্য পৌঁছে দেবেন।

এ বিষয়ে আইসিটি ডিভিশনের কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘লকডাউনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে একটি কন্ট্রোল রুম গঠন করে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি মেয়র, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রজেক্ট আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে আমরা ভ্যানে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। ভ্যান ও মিনিভ্যান স্যানিটাইজ করে এবং চালকদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে। এই ভ্যানগুলো প্রতিটি বাসার নিচে যাবে। সবাই এখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে পারবেন। যাদের কেনার সামর্র্থ্য নেই তাদের জন্য কন্ট্রোলরুম থেকে আলাদা ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।