• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

অস্ত্র ও জাল টাকার মামলায় স্বাস্থ্যের ড্রাইভার মালেক রিমান্ডে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

র‌্যাবের হাতে অবৈধ অস্ত্র এবং জাল টাকাসহ গ্রেফতার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পদত্যাগী মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের গাড়িচালক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে গত রোববার রাজধানীর তুরাগ থানায় অস্ত্র ও জাল টাকা তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। রাতেই মালেককে তুরাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। হস্তান্তরের সময় মালেকের কাছে পাওয়া অবৈধ অস্ত্র এবং জাল টাকা আলামত হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দেয়া হয়। এসব মামলায় গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানা পুলিশের এসআই। ওই দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবদুল মালেককে ১৪ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

র‌্যাবের অভিযানে গত শনিবার রাতে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পদত্যাগী ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেক (৬৩) গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিক গোয়েন্দা অনুসন্ধানে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকা ব্যবসা, চাঁদাবজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সে তার এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে এবং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তার ভয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জাল টাকা তৈরির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। গত রোববার রাতেই মামলা দুটি করা হয় তুরাগ থানায়। মামলার পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই দুই মামলা পুলিশ তদন্ত করছে। র‌্যাব এসব মামলা তদন্ত করবে কিনা এ বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

১৪ দিনের রিমান্ডে ড্রাইভার মালেক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভারকে পৃথক দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন। তুরাগ থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে অবৈধ অস্ত্র ও জাল টাকার ব্যবসার মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন মালেক ড্রাইভারকে। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জিএম মিজানুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আবদুল মালেককে দুপুর ২টায় আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই রুবেল শেখ আবদুল মালেককে আদালতে হাজির করে দুই মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকের গাড়িচালক। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০-২৫ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি তার কর্মস্থলে খুবই প্রভাবশালী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জাল টাকার ব্যবসাসহ নিজ কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবিকে কাজে লাগিয়ে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হন।

মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, জাল টাকার উৎস, পলাতক আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে আবদুল মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু দুই মামলাতেই সাত দিন করে ১৪ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুরের প্রর্থনা করেন।

আসামিপক্ষে জিএম মিজানুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে বলেন, ‘আইনে আসামিকে গ্রেফথারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী গভীর রাতে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এটা মানা হয়নি। পুলিশ যে আলামত উদ্ধারের কথা বলছে, তা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। ‘তাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার কারণ, সে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির গাড়িচালক। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছে। এছাড়া আসামি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। শ্বাসকষ্টের রোগী। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিল। তাছাড়া তিনি একজন বয়স্ক লোক। আর যা উদ্ধার তা তো উদ্ধার হয়ে গেছে। তাকে রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসা করা হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেয়।