• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নারায়ণগঞ্জে

অপরিকল্পিত লকডাউন তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার প্রশাসন বলছে পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে ছিল না সমন্বয় ন

সংবাদ :
  • সৌরভ হোসেন সিয়াম, নারায়ণগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

গতকাল তিন দিনের মাথায় নারায়ণগঞ্জে ‘রেডজোন’ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি আবাসিক এলাকার লকডাউন তুলে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ৭ জুন করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের দুটি ও সদর উপজেলার একটি আবাসিক এলাকা লকডাউনের ঘোষণা দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। যা পরদিন থেকে কার্যকর করতে শুরু করে প্রশাসন। লকডাউন প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই লকডাউন পরীক্ষামূলক ছিল। এর অভিজ্ঞতা অন্যান্য এলাকাগুলোতে লকডাউন কার্যকরে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সংবাদকে বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। গতকাল সকালে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশি পাহারা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে ‘রেডজোন’ নির্ধারণ এবং দ্বিতীয় দফায় লকডাউন করার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় ছিল না। স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই তিন এলাকা লকডাউনের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। এলাকাগুলো হচ্ছে- ফতুল্লার ভূইগড়ের রূপায়ন সিটি, সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমলাপাড়া ও জামতলার ‘এমপি গলি’ বলে পরিচিত আবদুল হামিদ সড়ক।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলার আবদুল হামিদ সড়কে করোনা আক্রান্ত রোগী নেই। ভূইগড়ের রূপায়ন টাউনে একজন রোগী আছেন। সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার অন্য এলাকাগুলোতে এর চেয়েও বেশি করোনা রোগী রয়েছে। তারপরও এই দুই এলাকাকে অধিক সংক্রমিত উল্লেখ করে ‘রেডজোন’ চিহ্নিত করে প্রশাসন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, জামতলা এলাকাটি অনেক বড়। পুরো জামতলায় ১৬ জন রোগী আছে। কিন্তু লকডাউন করা আবদুল হামিদ সড়কে কোন রোগী নেই। তাছাড়া রূপায়ন টাউনেও মাত্র একজন করোনা রোগী রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এই এলাকাগুলো ‘রেডজোনের’ আওতায় পড়ে না। এইকথা বারবার বলা হলেও ওই এলাকাগুলো লকডাউন করা হয়।

জানতে চাইলে জেলা করোনা ফোকাল পারসন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ওই তিন এলাকার লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জেনেছি। জোনিং বিষয়টি নতুন হওয়াতে কিছু কনফিউশন তৈরি হতে পারে। লকডাউনের ঘোষণা প্রশাসনের। তাই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সেন্ট্রাল জোনিং কমিটির সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ ও পরামর্শ দেবে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরুতে আমরা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে চিহ্নিত করেছি। এই ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এলাকাটিতে অচিরেই লকডাউন কার্যকর শুরু হবে। এখন পর্যন্ত কোন পজেটিভ রোগী চিহ্নিত না হওয়াতে সদর উপজেলার আলীরটেক ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউনিয়নটিকে করোনামুক্ত রাখতে কাজ করবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন।

করোনার এই মহামারীতে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার পরিণতি ভয়াবহ হবে মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রফিউর রাব্বি সংবাদকে বলেন, শুরু থেকেই প্রশাসনের মধ্যে বড় একটা সমন্বয়হীনতা। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসন নয়; জেলা পুলিশ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনের একজনের সঙ্গে আরেকজনের কথা মেলে না। করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়েও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের কথাবার্তার অনেক ফারাক রয়েছে। এটা আন্তরিকতা নাকি অভিজ্ঞতার অভাব সেটা একটা প্রশ্ন। সমন্বয় না থাকলে এই সংকটকালে আরও মারাত্মক ও ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। কলটি তিনি রিসিভ না করলে ওই নম্বরে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার জবাব দেননি তিনি।