• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

৬৪ বছরের জরায় জীর্ণ ঘিওর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

সংবাদ :
  • রামপ্রসাদ সরকার দীপু, মানিকগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মানিকগঞ্জ : ঘিওর সদর ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরাজীর্ণ টিনের ঘর -সংবাদ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সদর ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন যাবত নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। দীর্ঘ ৬৪টি বছর অতিবাহিত হবার পরেও এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উন্নয়ন করা হয়নি। অব্যবস্থাপনা এবং জোড়াতালি দিয়ে পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ টিন সেড ঘড়টিতেই চলছে সকল প্রকার কার্যক্রম। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমস্যা নিরসনে নেই বিন্দু মাত্র মাথা ব্যথা। জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে প্রথম দিকে ঘিওর উপজেলার কুকুরতারা (গোলাপনগর) গ্রামের প্রয়াত ওয়াজীর আলীর ছেলে মো. ফাজেল আহম্মেদ এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের নামে ২৬ শতাংশ জমিটি দান করেন। এলাকার লোকজনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দাতব্য চিকিৎসালয় নামে একটি টিন সেড ঘড় নির্মাণ হয়। পরে এলাকার লোকজনের চিকিৎসার কথা ভেবে তৎকালীন সরকার কেন্দ্রটিকে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপান্তরিত করে। এলাকার অসহায় দরিদ্র লোকজন অল্পদিনে ভাল চিকিৎসা সেবা পায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘ প্রায় ৬৪ বছর অতিবাহিত হবার পরেও কেন্দ্রটি কোন রকম উন্নতি করা হয়নি। হাজারো সমস্যার বর্তমানে কেন্দ্রটি বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে স্টাফ কোয়াটারগুলো সংস্কার করা হলেও তা কোন উপকারে আসেনি। বর্তমানে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক, পানি, আসবাবপত্রগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। ফ্যানগুলো মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চারপাশে ময়লা আর্বজনায় দুগর্ন্ধে রোগীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। বাউন্ডারি নেই, চেয়ার-টেবিল, জানালগুলো ভাংগাচোড়া, প্রসাব খানা ও টয়লেট নেই। স্টাফ কোয়াটারগুলো বেহাল অবস্থায় পরে আছে। এ ব্যাপারে ঊধ্বর্তন প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেও কেন লাভ হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে এস.এ.সি.এম. ও (সেকমো) ইফ্ফাত জাহান এবং ফার্মাসিস্ট মো. আব্দুল বাতেন রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসমা এবং অফিস সহকারী মো. শফিকুল ইসলামের পোস্টিং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হলেও ডেপুটিশনে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তারা সেবা দিচ্ছেন। ফলে ২ জন দিয়ে খুঁরিয়ে খুঁরিয়ে চলছে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সকল প্রকার কাজকর্ম। তিন-চার মাস অন্তর ১৪ থেকে ১৫ রকমের ওষুধ দেয়া হয়। যা প্রয়োজন তুলনায় একেবারেই কম। এতে গর্ভবর্তী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ গ্রামীণ শিশু নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মজিবর রহমানসহ কয়েকজন রোগীরা জানান, জ¦র ও কাঁশি বুকে ব্যথা নিয়ে এসেছিলাম ওষুধ নেবার জন্য কিন্তু ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এদিকে, কয়েক দফায় হাজার-হাজার টাকা ব্যয় করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সংস্কার করা হয়। বাউন্ডারি না থাকার কারণে অহরহ বখাটে ছেলেরা প্রবেশ করছে। রাতে বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রবাদি পান করে বোতল ভেতরেই ফেলে রাখে। সব চেয়ে আশ্চর্য বিষয়, বৈদ্যুতিক মিটার আছে কিন্তু সংযোগ নেই। এদিকে দীর্ঘদিন যাবত মূল ভবনটি (টিনের ঘড়) সংস্কার না করায় বৃষ্টির সময় পানি পরে। দেয়ালের পলেস্টার উঠে যাচ্ছে। এদিকে, দীর্ঘদিন যাবত মোটর নষ্ট থাকায় পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নলকূপ না থাকায় স্টাফ এবং রোগীদের চরম অসুবিধা হচ্ছে। ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, বহুদিন যাবত এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই। অন্যান্য পদে লোকবল নেই। ফলে এলাকার লোকজন চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৌমেন চৌধুরী সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার সঙ্কট রয়েছে। তাই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে ডাক্তার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রত্যেকটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তবে আমাদের এখানে অচিরেই আমরা ডাক্তার পাবো বলে আশাবাদী। এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।