• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

৪৯ বছরেও স্বীকৃতিবঞ্চিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা লোকমানের পরিবার

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী)

| ঢাকা , রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) : মুক্তিযোদ্ধার প্রমাণপত্র ও সনদ প্রতিনিধির কাছে প্রদর্শন করছেন ছেলে নুরুল হুদা -সংবাদ

দেশব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গনণা চলছে তখনও বঙ্গবন্ধুর দেয়া ম্মৃতিচিহৃ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের আবদুল্যাহপুর গ্রামের শহীদ লোকমান আলীর স্বজনরা। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি এই মুক্তিযোদ্ধার। জরাজীর্ণ একটি ঘরে কাটাচ্ছেন মানবেতন জীবন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী ও শহীদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জানা গেছে, লোকমান আলী পাকিস্তান আমলে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাধে তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একই সালের ৯ ডিসেম্বর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের সটিবাড়ি হাট এলাকায় তিনি পাকবাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হন। সেখানকার গণকবরে তার নাম রয়েছে। ১৯৭২ সালের ৬ এপ্রিল লোকমান আলীর আত্মদানের কথা স্বরণ করে স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি সনদপত্র ও ২ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দেয়া সনদ ও চেক থাকলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছরে এই মুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে লোকমান আলী পরিবারের সদস্যরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রশসনের বিভিন্ন দফতরে ধর্না দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। বর্তমানে ফাইলটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে লাল ফিতায় বন্দী থাকায় হতাশ এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যারা। এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর শোকে অল্প কয়দিনের মধ্যেই স্ত্রী বেলাতুন নেছা স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী দুই নাতিসহ তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায় লোকমান আলীকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদানের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। আবদুল্যাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম দোলন, এম এ হাসানসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতের সই করা সনদ ও চেক রয়েছে সেখানে আর কি ডকোমেন্ট থাকলে লোকমান আলী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে। আমরা প্রশাসনের এমন কর্মকা-ে হতাশ। আশা করি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। বঙ্গবন্ধুর দেয়া চেক ও সনদ থাকার পরও কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ লোকমান আলীর স্ত্রী বেলাতুন নেছা জানান, ঢাকা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোন সহযোগিতা পাইনি। পিতার আত্মার শান্তির জন্য হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে পুত্র নুরুল হুদা বলেন, আমাদের ফাইলটি বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে রয়েছে। ফাইলটির এখন কি অবস্থা আমাদের জানা নেই। আমরা এখন বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তপেক্ষ কামনা করছি।

কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হিরন ও ইউপি সদস্য নুরুল হুদা আলমগীর জানান, কাগজপত্র ও সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে আমরা যা বুঝেছি ও শুনেছি তাতে মনে হয়-মুক্তিযোদ্ধা লোকমান মিয়া একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নাম তালিকাভুক্ত করা দরকার। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকাকালে একজন মুক্তিযোদ্ধার পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকব এবং যে কোন প্রকার সহযোগিতা আমরা করব। বেগমগঞ্জ উপজেলরা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙালী জানান, কাগজপত্র যাচাই বাছাই ও ডিমলায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে লোকমান আলী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তাই তিনি তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য বলে আমি মনে করি। বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা জানান, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া চেক ও সনদ থাকার পরও লোকমান আলী কেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের পরিবার হিসেবে শহীদ লোকমান আলীর পাশে দাঁড়াবে উপজেলা পরিষদ। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। মুজিবশতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে জাতীর পিতার দেয়া স্মৃতিচিহ্ন বহনকারী মুক্তিযোদ্ধা লোকমান আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এমনটাই সবার প্রত্যাশা।