• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

২০ বছর পর হঠাৎ সেচ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পবিস’র : ২০ একর বোরো ফেটে চৌছির!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ(রংপুর)

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বদরগঞ্জ (রংপুর) : সেচপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ফেটে চৌচির বোরো ক্ষেত -সংবাদ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর প্রধানপাড়া। ২০০০ সালে ওই এলাকার চাষিদের সুবিধার জন্য সেচ পাম্পে বিদ্যুত সংযোগ নেন এ পাড়ারই মোশারফ হোসেন। দু’বছর আগে তার মৃত্যু হলেও ছেলে জয়নাল আবেদীন এখনও বাবার নামেই সেচ পাম্প চালাচ্ছেন এবং যথারীতি বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেছেন।

এবারে বোরো মওসুমে শতাধিক চাষি কমপক্ষে ২০ একর জমিতে বোরো চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু এতে বাধ সেধেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি-বিধি সম্মত উপায়ে ওই সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ নেয়া হয়নি। ফলে বোরো চাষিরা জমিতে সেচ দিতে না পারায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। কথা হয় দিনমজুর আনছার আলীর(৬০) সঙ্গে।

তিনি বলেন, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২৫ দিন আগে ৬০ শতক জমিতে বোরো চারা রোপণ করেছি। এরই মধ্যে জমি প্রস্তুতকরণ, সার, ও চারা রোপণে খরচ হয়েছে আট হাজার টাকা। খরচ সামলাতে না পেরে মহাজনের কাছ থেকে শুরুতেই তিন হাজার টাকা উচ্চ সুদে গ্রহণ করেছি। ধান মাড়াইয়ের পর মহাজনকে দিতে হবে সুদসহ সাড়ে চার হাজার টাকা। প্রথমবার ইউরিয়া প্রয়োগের সময়সীমা পার হলেও সেচ দিতে না পারায় ইউরিয়া প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি জমিতে পানি না থাকায় চারা গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। রংপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম হামিদুল হক বলেন, নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ১২০ ফুট দূরত্বের মধ্যে সেচ পাম্প বসাতে হবে। কিন্তু জয়নাল আবেদীন তা’ না মেনে ৫০০ ফুট দূরে সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। এ কারণে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা হয়েছে।

এদিকে জয়নাল আবেদীনের দাবি- ২০০০ সালের ১৫ জানুয়ারি বাবা মোশারফ হোসেন ওই সেচ পাম্প স্থাপন করেন। তখন থেকেই সেটি চালু আছে। দু’বছর আগে বাবা মারা গেলেও মিটারটি তারই নামে রয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে করে বলেন, ২০ বছর পর এসে বিদ্যুৎ অফিস বিধির কথা বলছে। তাও আবার জমিতে বোরো চারা রোপণের পর- এটি কি মেনে নেয়া যায়।

অপরদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ না করলেও বিষয়টি লোক মুখে শুনে সেখানে সংশ্লিষ্ট উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেন, জমিতে বোরো চারা রোপণের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। চাষিদের বোরো ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত সুযোগ দেয়া উচিত ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের।