• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগ জনবল সঙ্কট : যানজটে অস্থির মানুষ

সংবাদ :
  • কাজী জাহিদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

| ঢাকা , শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

সৈয়দপুর (নীলফামারী) : শহরের পাঁচমাথা মোড়ে এভাবেই প্রতিদিন লেগে থাকে যানজট -সংবাদ

জনবহুল সৈয়দপুর শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ জনবল সঙ্কটে ভুগছে। মাত্র ১৫ পুলিশ ও কর্মকর্তা নিয়ে চলছে শহরের ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম। ফলে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা ফিরছে না। যানবাহনের আধিক্য ও শহরমুখী মানুষের চাপে দিন দিন যানজট প্রকট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নীলফামারী জেলা পুলিশ প্রশাসন গত বছর সৈয়দপুরে ট্রাফিক পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোন অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে কয়েক দফা তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়া হলেও কোন ফল হয়নি। এতে করে নিত্যদিনের যানজটের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না সৈয়দপুরবাসীর।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দর যাত্রীদের যাতায়াত ও সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় শহরে ট্রাফিক পয়েন্ট ৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এসব পয়েন্টে ডিউটির জন্য ১৬ জন পুলিশ প্রয়োজন। কিন্তু পুলিশ রয়েছে মাত্র ৭ জন। ফলে পুলিশ-কর্মকর্তা মিলে ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাফিক বিভাগ। তারপরও জনবল অভাবে সব পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। এর মধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটি নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। সূত্র জানায়, সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগে ২৪ জন জনবল মঞ্জুরি রয়েছে। অথচ জনবল আছে মাত্র ১৫ জন। ফলে অতি স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে যানজট নিরসন স্থায়ী রূপ পাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, জনসংখ্যার তুলনায় সৈয়দপুর শহরে প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত সড়ক নেই। মূল শহরের ৬টি প্রধান সড়ক ঘিরে শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজার গড়ে উঠেছে। ফলে এই ৬টি সড়কে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচলে যানজট পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। সড়কের যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামায় যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। একই সঙ্গে যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে প্রায় ৩০ হাজার ব্যাটারি চালিত অটো, রিক্সাভ্যান ও রিক্সা চলাচল করে। এর সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হয় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসংখ্য যানবাহনও। এছাড়া বিমানবন্দরের কারণে সৈয়দপুর ছাড়াও আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক মাইক্রোবাস প্রাইভেট কারসহ অসংখ্যক যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় যানজটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক জিয়া শহরের যানজট পরিস্থিতি যন্ত্রণাদায়ক মন্তব্য করে বলেন, শহরে যানজট নিরসন এবং যান চলাচল শৃঙ্খলায় আনতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা দিতে পৌরসভার ৬ জন লোক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও সড়কের পাশে বসা ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্টস্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সরানো সম্ভব হচ্ছে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জানতে চাইলে, সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) মো. আবু নাহিদ পারভেজ চৌধুরী ট্রাফিক পুলিশের জনবল স্বল্পতার কথা স্বীকার করে জানান, জনবল সঙ্কটের জন্য ট্রাফিক পয়েন্টে সার্বক্ষণিক লোক দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে শতভাগ শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না।

সৈয়দপুর উপজেলা শহর হলেও শহরমুখী মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি এবং সড়কে মাত্রারিক্ত যানবাহনের চলাচল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনিতে শহরে সীমিত সড়ক, তার ওপর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান এবং মালামাল রাখায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নেমে আসায় সড়কের ধারণক্ষমতা মত যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের একটি আলাদা ইউনিট করার প্রস্তাবনা পুলিশ হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পাশাপাশি যানজটও কমে আসবে।