• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ ২৫ জিলহজ ১৪৪২

সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ মেলা শুরু আজ

সমাগম হবে ১২ লক্ষাধিক ভক্তের

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

সীতাকু- (চট্টগ্রাম) : চন্দ্রনাথ পাহাড়ে পুর্ণ্যার্থীরা (ফাইল ছবি) -সংবাদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মহাতীর্থের চন্দ্রনাধ ধামে আসন্ন শিব চতুর্দশী মেলাকে ঘিরে সর্বত্র উৎসবের আমেজে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে তীর্থ ভূমিতে।

আজ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী এ মেলায় এবারও দেশ-বিদেশের ১০-১২ লাখ ভক্তের আগমণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তাদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠুভাবে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনসহ নানান বিষয়গুলো নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন মেলা কমিটি, তীর্থ কমিটি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মেলা উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনসহ লোকাল ট্রেনসমূহ সীতাকুণ্ড রেল স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক প্রায় সাড়ে ৩শ’ বছর পূর্বে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম মহাতীর্থে শিব চতুর্দশী তিথিকে ঘিরে একটি সুবিশাল মেলা বসেছিল। পৌরসদরের মন্দির সড়ক থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার সুউচ্চ পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ দেবের মন্দির পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এ মেলায় সারাদেশের অগণিত ভক্তের আগমন হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কালক্রমে সারা পৃথিবীতে এ মেলার কথা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ সনাতনী ভক্তরা শিব চতুর্দশীর পূণ্য তিথিতে এখানে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে দেবাধিদেব মহাদেবের কৃপা লাভের জন্য ছুটে আসেন। ফলে মেলার এ সময়ে এ তীর্থভূমি মহামানবের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। আর বিশাল এ মেলাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সংশ্লিষ্টদের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়।

সীতাকুণ্ড শম্ভুনাথ মন্দিরের পূজারী দিপক চক্রবর্তী জানান, শিব চতুর্দশী তিথিতে মূলত দেবাধিদেব মহাদেবের সন্তুষ্টির জন্য ভক্তরা পূজা অর্চনা করেন। দেবাধিদেব মহাদেব স্বয়ং বলেছেন যে ‘কলিযুগে আমি চন্দ্রনাথেই অবস্থান করিব’। অর্থাৎ সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে তিনি অবস্থান করবেন। এছাড়া চন্দ্রনাথ ধাম মহাতীর্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রেষ্ঠ ৫১টি তীর্থের মধ্যে একটি। এখানে দেবী সতীর দক্ষিণ হস্ত এসে পড়েছিল। ত্রেতাযুগে এখানে এসেছিলেন ভগবান শ্রী রামচন্দ্র, সীতাদেবী ও লক্ষণ। সীতাদেবীর নানান স্মৃতিকে ঘিরেই মূলত এই উপজেলাটি সীতাকুণ্ড নামে পরিচিতি লাভ করে। এছাড়া যুগে যুগে আরো অগণিত মহাপূরুষ এই তীর্থে এসে এটিকে মহাপূণ্যভূমিতে পরিণত করেছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি একটি বিশাল মেলা। এজন্য চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের বিশেষ দিক নির্দেশনা মেনে আমাদের প্রায় ৫শ’ পুলিশ সদস্য মেলায় দায়িত্ব পালন করবে। মেলায় যাত্রীরা যেন নিরাপদে ফিরতে পারে সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখব।