• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

শ্রমিক লীগের কার্যালয় বাধায় থমকে খেলার মাঠের প্রাচীর নির্মাণ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঝালকাঠি

| ঢাকা , রোববার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নলছিটির ‘চায়না’ মাঠের আশপাশে অবৈধ স্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছিলো খেলাধুলার পরিবেশ। উপজেলা প্রশাসন মাঠের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে মাঠের দক্ষিণ পাশের ২০টি দোকান নিজ উদ্যোগেই সরিয়ে নেয় দখলকারীরা। তবে এখনো অপসারণ করা যায়নি উপজেলা শ্রমিক লীগের কার্যালয়। এতে মাঠের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ ব্যাহত হয়। এতে ক্ষুব্দ স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা।

জানা যায়, চায়না মাঠের দক্ষিণ পাশে অবৈধভাবে গড়ো তোলা হয় ২২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে মাঠের প্রসস্থতা কমে যায়। ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় সীমানা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। মাঠটি কয়েক দফায় মাটি ফেলে সংস্কার করা হলেও অবৈধ স্থাপনাগুলো সরানো হয়নি। এরই মধ্যে ২০১৫ সালে উপজেলা শ্রমিক লীগ অবৈধভাবে মাঠের জমি দখল করে উপজেলা কার্যালয় নির্মাণ করে। কার্যালয়টি নির্মাণের পর থেকে পাশের অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শক্ত অবস্থান নিয়ে অবৈধভাবে টিকে যায়। একাধিকবার নিজ উদ্যোগে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন এবং ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হলেও কেউই সে নির্দেশনা মানেনি। অবশেষে চায়না মাঠকে দখলমুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। নলছিটির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম খান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহফুজ খান নিজের অর্থায়নে মাঠের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ১৪ জানুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। ২২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিজ উদ্যোগে ২০টি স্থাপনা সরিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় শ্রমিক লীগের কার্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। এর পরপরই মাঠের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন মাহফুজ খান। কিন্তু শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ কোনভাবেই তাদের কার্যালয় অপসারণ করছে না। মালামাল সরিয়ে অন্য কোন জায়গায় অফিস খুঁজে পাওয়ার পরে কার্যালয়টি অপসারণ করা হবে বলে সময় ক্ষেপণের অভিযোগ পাওয়া গেছে । তাদের খামখেয়ালিতে আরো দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে মাঠের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ মাঝপথে থেমে গেছে।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি পারভেজ হোসেন হান্নান বলেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন বিধান মানা হয়নি। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের অফিস ভেঙে ফেলা। এখানে অনেক শ্রমিক ছোট ছোট দোকান দিয়ে রোজগার করতো। তাদের কোথাও জায়গা না দিয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। আমরা বৈধভাবে কার্যালয়টি করেছি, এটি নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে আমরাও বসে থাকবো না।

নলছিটি ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন আলো বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি, তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।