• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

শতাধিক অবৈধ করাতকলে বৃক্ষশূন্য হচ্ছে গজারি বন

কুম্ভকর্ণের ঘুমে বন বিভাগ আশ্রয়হীন হচ্ছে পশু-পাখি

সংবাদ :
  • আতাউর রহমান তরফদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : লাইসেন্সবিহীন করাতকলে এভাবেই চলছে কাঠ চেরাই -সংবাদ

উপজেলার ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের আওতায় শতাধিক লাইসেন্সবিহীন করাতকলে দিনরাত কাঠ চেরাইয়ের ফলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানসহ এলাকার পরিবেশবান্ধব বন এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস হলেও অজ্ঞাত কারণে বনবিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে আবহাওয়ার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। আশ্রয়হীন হচ্ছে বন্যপ্রাণী ও পশুপাখি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালুকার কাঠালী, হাজির বাজার,কাচিনা ইউনিয়নের কাচিনা, বাটাজোর বাজার, মল্লিকবাড়ী, হবিরবাড়ী, খন্দকারপাড়া, আঙ্গারগাড়া বাজার ও ডাকাতিয়া চৌরাস্তা, আউলিয়ারচালা, উথুরা রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন বাজার, চামিয়াদী বাজার, কৈয়াদী বাজার, নিঝুরী, বাজর এলাকায় প্রায় ৭০-৮০টির মতো লাইসেন্সবিহীন করাত কলে দিনরাত চলছে শাল-গজারী ও বাগান কাঠ চিড়াই, ফলে উজার হচ্ছে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের শাল-গজারী বন। উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও এলাকায় কাদিগড় বন বিটের শাল-গজারী বনাবৃত বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান। যেখানে রয়েছে বন্য প্রাণীর জীববৈচিত্রে ভরপুর আর অতি পুরোনো শাল-গজারী গাছের অপরুপ নয়নাভিরাম সবুজ বনের সমারোহ। বন আইনে বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন করাতকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কাদিগড় বনাঞ্চল হতে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে কাচিনা বাজার, আড়াই কিলোমিটার দূরে বাটাজোর বাজারে ১০-১২টি লাইসেন্সবিহীন কড়াত কলে দিনরাত চলছে শাল-গজারী ও বাগান কাঠ চিড়াই কাজ। কাদিগড় বন বিট অফিস হতে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে বাটাজোর বাজারে ১৩টি কড়াত কলে বনের গাছ চেড়াই করছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া জাতীয় উদ্যানের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে তামাট বাজারে রফিক মিয়াসহ অন্যরা ২-৩ তিনটি করাত কলে রাত দিন বনের কাঠ চেড়াই করে নষ্ট করছে জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য্য আর আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে ওই এলাকার বন্য প্রাণিকুল। এসব বনে শত শত বানর রয়েছে এছারা বন বিভাগ ওই উদ্যান এলাকায় মেছুবাঘ, লজ্জাবতী বানর সহ কয়েক প্রজাতির প্রাণী উন্মুক্ত ছেড়েছে। অথচ বন বিভাগের লোকজনের উদাসীনতার সুযোগ নিচ্ছে অবৈধ কড়াতকল মলিক ও কাঠ পাচারকারী সঙ্গবদ্ধভাবে চোর দল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কড়াতকল মালিক জানান তারা বছরের পর বছর বন এলাকায় বিনা লাইসেন্সে বনের লোকজনদের ম্যানেজ করেই কড়াতকল চালাচ্ছেন। বাটাজোর বাজার, চামিয়াদী, কৈয়াদী ও উথুরা বাজারে কড়াতকল মালিকদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ফার্নিচারের দোকানসহ শত শত কাঠ মিস্ত্রির দোকান রয়েছে। এ ব্যাপারে কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, বাটাজোর এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গড়ে উঠা প্রায় ১৩টির মতো লাইসেন্সবিহীন কড়াতকল রয়েছে সম্প্রতি দুটির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান বনের সীমানা হতে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কড়াতকলের লাইসেন্স দেয়ার বিধান নেই। সরকারের জলবায়ু, বন ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ কড়াত কল মালিকরা জাতীয় উদ্যানের ক্ষতি সাধনসহ পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ বন ধ্বংসে লিপ্ত রয়েছে। বন রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অচিরেই ব্যবস্থা নিবেন এটাই সচেতন মহলের দাবি।