• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

লালপুরে চরবাসীর আশীর্বাদ সৌরবিদ্যুৎ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নাটোর

| ঢাকা , বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সম্প্রতি লালপুর উপজেলার চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে এখানকার অধিবাসীরা সৌরবিদ্যুতের কল্যাণে চরের ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর পাশাপাশি শিক্ষার আলোও ছড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।

পদ্মার বুকচিড়ে জেগে ওঠেছে চর লালপুর। এ চরে রয়েছে মোট ৪টি গ্রাম। শীতে তীব্র শীত, গ্রীষ্মে চরের বালুর তীব্রদাহ আর বর্ষায় ভয়াল পদ্মার রুদ্ররূপÑ ফলে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা ১২ মাসই চরবাসীর জীবন অতিবাহিত হয় কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এখানে নেই শিক্ষার জন্য কোন ভালো প্রতিষ্ঠান; নেই ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা; পৌঁছায়নি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ।

এতসব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চরবাসীর জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, বিনা মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ’ এবং ‘গ্রাম হবে শহর’ এই সেøাগানকে মূলমন্ত্র করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিটা কর্মসূচির আওতায় অংশীজন সংস্থাগুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্পটিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছে।

চর লালপুরের প্রথম গ্রামটিতেই রয়েছে ‘আলোর দরজা শিশু বিদ্যা নিকেতন’। বিউটি খাতুন ও তার স্বামী মো. জসিম মিলে এটি চালান। বিউটি খাতুন জানালেন, প্রকল্পের আওতায় তাদের এই প্রতিষ্ঠানে একটি সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপিত হওয়ায় পাঠদানের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের অনেকের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ থাকায় তারা রাতের বেলা স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখা করতে পারছে। সৌরবিদ্যুতের উপকারভোগী এ চরের বাসিন্দা বাবর আলী বললেন, ‘এতদিন আন্ধারেই ছিলাম; সোলার বাতি পায়ে আলোর মুখ দেখপার পারছি।’

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’ গত তিন অর্থবছরে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিটা কর্মসূচির আওতায় লালপুর উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিভিন্ন অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে মোট ৩ হাজার ৪২৮টি সোলার হোমসিস্টেম, ৩টি এসি, ১টি ডিসি ও ৪৫৩টি সড়কবাতি স্থাপন করেছে। তিন অর্থবছরে এতে বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি ১৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা।

লালপুর ইউনিয়নের ৯ ওয়াডের্র মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বললেন, সরকারের এ প্রকল্প গরীবদের জন্য আর্শীবাদ।