• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বঞ্চিত ভাষা সৈনিক সালাম

সংবাদ :
  • নজরুল ইসলাম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

| ঢাকা , শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইনের পাইরোল গ্রামের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবদুস সালাম মাস্টার ভাষা আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মিটিং মিছিলে স্বক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব দিলেও এখনও ভাষা সৈনিক হিসেবে সরকারি গেজেটেড স্বীকৃতি পাননি।

প্রতি বছর একুশে ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাষা সৈনিক হিসেবে সম্মান দেখানো হলেও সরকারি কাগজপত্রে ভাষা সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, উপজেলার জঙ্গলখাইননের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবদুস সালাম মাস্টার ১৯৩৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মৃত আশরাফ আলী, মাতা মৃত আছোবা খাতুন। ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ১৯ বছরের যুবক। প্রাইমারি ও হাইস্কুলে পড়ার সময় উর্দু ভাষা হিন্দু মুসলিম সকল ধর্মের ছাত্রদের বাধ্যতামূলক ছিল। উর্দু ভাষা বাঙালী ছাত্রদের শিক্ষতে কষ্ট হওয়ায় ছাত্ররা ক্লাসে পড়া শিখতে না পারলে শিক্ষকেরা নির্মমভাবে ছাত্রদের মারধর করত। তখন থেকে উর্দু ভাষার প্রতি একটি ঘৃণা জন্মে ছাত্রদের। ভাষা আন্দোলন শুরু হলে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে পটিয়া সদরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাকে ভাষা রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে মিছিল সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আবদুস ছালাম মাস্টার, মফিজুর রহমান সাদা, আহমদ হোসেন, বজেন্দ্র নাথ শীল, সরেবিন্দু পালসহ অনেকে।

তাদের মধ্যে ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টার ছাড়া তারা এখন কেউ বেঁচে নেই। ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট মুসলিম লীগ বিরোধী আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৬২ সালে গৈড়লা কে.পি উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮২ সালের দিকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে গেরিলা বাহিনীর সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিপিবির চট্টগ্রাম জেলার নেতৃত্ব ছিলেন তিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে গেরিলা কমান্ডার ছিলেন কমরেড শাহ আলম তিনি গেরিলা বাহিনীর প্রধান ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের। উপজেলা সিপিবির সভাপতি সালাম মাস্টার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ধীরেন দাশ। পরে একই কমিটি চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকার ও গৈড়লা স্কুলের প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টারের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অনেকে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সালাম মাস্টারের ছাত্রদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক যুগ্ম পরিচালক ফজল আহমদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার যুগল সরকার, তাজুল মুল্লক চেয়ারম্যান, আবু বকরসহ অনেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক সালাম মাস্টার অনুপ্রাণিত করেছেন। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধার সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও ভাষা সৈনিক হিসেবে এখনও স্বীকৃতি পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারিভাবে ভাষা সৈনিক হিসেবে কোন স্বীকৃতি না পেলেও এ পর্যন্ত সম্মননা পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক হিসেবে ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সম্মননাপত্র। ২০০০ সালে ৭ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক সম্মানা প্রদান, ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সনদপত্র প্রদান, ২০০৫ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একটি সনদপত্র প্রদান করেন। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

সালাম মাস্টারের ৫ ছেলে মেয়েদের মধ্যে সবাই উচ্চ শিক্ষিত হলেও কেউ সরকারি কোন চাকরি পাননি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের নেতাদের ঘুষ দিয়েও ছেলে মেয়েদের চাকরি হয়নি। এ প্রসঙ্গে ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টার বলেন, আমি আমার ছেলে মেয়েদের জন্য কিছুই করতে পারিনি কিন্তু আমাদের ছেলে মেয়েদের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে চিনে এটা আমার বড় পাওনা সরকার আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলে আমার জীবনটা পূর্ণ হবে আমার আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই।

এ ব্যাপারে ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টারের ছোট ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী ছাত্র নেতা সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বলেন, আমার পিতা খুব সহজ সরল মানুষ জীবনে কখনো অন্যায় অবিচারের কাছে মাথানত করেনি। দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট দাবি জানায় তাকে যেন ভাষা সৈনিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি, ভাষা সৈনিক সালাম মাস্টারের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাবেন বলে তিনি জানান।