• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

রাজশাহীতে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আছে : ডাক্তার নেই!

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

রোগীদের কোন কাজেই আসছে না রাজশাহী কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। দিনের বেশিরভাগ সময়ই এটি বন্ধ পড়ে থাকছে। চিকিসকের পদ একটি, সেটিও শূন্য। একজন সহকারী ও একজন সুইপার অফিসে আসেন। কিছুক্ষণ কেন্দ্রে থাকেন তারপর বাড়ি ফিরে যান। এখানে কোন রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন একটা খোঁজই রাখেন না স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে কর্মরত এখানকার দুই কর্মচারী দাবি করলেন, আগে কিছুটা চিকিৎসা হতো তবে, ডিসেম্বর মাসে চিকিৎসক না থাকায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখানে চিকিৎসা বন্ধ ।

হাসপাতালের টিবিএম সহকারী আক্তার হোসেন জানান, এখানে ডাক্তার নেই। এ বছরের শুরু থেকেই কোন ডাক্তার নেই। আমি আর একজন সুইপার এখানে বর্তমানে আছি। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ জন রোগী হয়। ডাক্তার না থাকায় এখন তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তারা আসছেন ফিরে যাচ্ছেন। এই দুই কর্মচারী দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার পর এটি বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। সকালে নাম মাত্র সুইপার ও সহকারী এসে এটি খোলেন। তবে বেলা গড়াতেই তারা চলে যান তালাবদ্ধ করে। সেখানে গত ডিসেম্বর মাসের পর থেকে নেই কোন ডাক্তার। হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাসপাতালের কোন কার্যক্রমই নেই সেখানে। সামনের মাঠেই চরানো হচ্ছে ছাগল, ভেড়া ও গরু। সেখানেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের অলামতও। এমনকি কেন্দ্রেটিতে বসবার চেয়ার, টেবিল বা অন্য কোন আসবাবপত্রও নেই। নেই কোন যন্ত্রপাতি। দেখা মেলেনি কোন ধরনের ওষুধ ও সেবা প্রদানের নমুনাও।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে বিভিন্ন রোগী সেখানে দেখেন। তবে তাদের কোন চিকিৎসা দিতে দেখা যায় না বলে জানান স্থানীয়রা। এখানে চিকিৎসা না হওয়ার কারনে কেন্দ্রেটির পাশেই সন্ধ্যে হলে জমে ওঠে মাদক সেবনের আড্ডা। এদিকে, এখানকার একমাত্র নাইট গার্ডটিকে সম্প্রতি ডিউটি দেয়া হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসে। এ কারণে রাতের বেলা পুরো কেন্দ্রই এখন অরক্ষিত। এ সুযোগে মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে মাদক সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান। আর রাজশাহীর স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে নেই। ডাক্তারের পোস্টিং বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।