• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

যন্ত্রের সহজলভ্যতায় জোয়ালমুক্ত হচ্ছে গরু

সংবাদ :
  • আব্দুল হান্নান, সদরপুর (ফরিদপুর)

| ঢাকা , রোববার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

আগের দিনে লাল-সবুজের বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের ফসল বোনার মাঠের কাজে চোখ পড়তো গরু আর লাঙল কাঁধে নিয়ে কাক ডাকা ভোরে গৃহস্থের বাড়ির রাখাল গরুর লাঙল ও জোয়াল বয়ে নিয়ে জমি চাষ করার জন্যে মাঠে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে লাঙল দিয়ে হাল চাষ করা। এখন সেই সব দৃশ্য গ্রাম বাঙলায় চোখে দেখা অত্যান্ন দুস্কর।

আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন-নতুন আবিষ্কারে ফলে, কৃষি ও কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা ধরনের পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া কৃষকের মাঠেও লেগেছে। তাই আর মাঠে মনের আনন্দে গান গেয়ে হাল চাষ করতে দেখা যায় না। কৃষি প্রধান বাঙলা দেশে হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরুর লাঙল আর জোয়াল। চিরয়ায়িত ঐতিহ্য এর বাঙলায় অপরূপ রূপের সঙ্গে কৃষি ও কৃষকের কথা, কৃষি উপকরনের কথা আসবেই। তেমনই আসবে হাল লাঙল এর কথা আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে হাল চাষের বেশ পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর কেউ বেশী সময় ধরে গরুর লাঙল দিয়ে হাল চাষ করতে চায় না। এর পরিবর্তে কলের লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে থাকে এতে সময় ও খরচ সবই বাঁচে। এখন আর বেশি অর্থ ব্যায় করে লাঙলের গরু পুশতে চায় না। লাঙল-গরু-রাখাল দিয়ে কৃষি কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে গৃহস্থরা। এখন অল্প সময়ে বেশী চাষ করে ফসলের সমাহার ঘটায় এদেশের কৃষক সমাজ। এখন কলের লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়েন জমি চাষ করার প্রচলন এসেছে। এক সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু পুষতো বানিজ্যিক ভাবে হাল চাষ করার জন্যে। আবার গ্রামের কিছু লোক গরু পালন করতো পেশা হিসাবে হাল চাষ করার জন্যে।

নিজের হাল চাষের জমি না থাকলে ও অন্যের জমিতে হাল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। হালের গরুর লাঙল কৃষকের পুঁজি ছিল যা দিয়ে সংসার চালাতো হালের গরুই তাদের বড় সম্পদ ছিল, গরু দিয়ে হাল করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে পেত। তাই অনেক চাষি বা গৃহস্থরা হাল চাষ ছেড়ে দিয়েছে। তারা অনেকেই এখন আর হাল চাষ করে না। আগের দিনে প্রতিটা গৃহস্থ বাড়ি হাল-গরু থাকতো এখন সেই দৃশ্য শুধুই নামান্তর।

এক সময় বলতো পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু এই তিনটি ধারনাই ছিল গৃহস্থের বাড়ি। এখন গৃহস্থের বাড়ির ধারনা বদলে গেছে। এখন গ্রাম অঞ্চলে এই ধারনা নেই, এখন গোলা চেনার বা জানার মত লোকেরই বড় অভাব।

ফরিদপুরের কৃষক মোবারেক বলেন এই অঞ্চলে আমি ছাড়া আর কোন গরুর লাঙলের চাষি নেই, প্রতি বছরই ভিটে-ঘাটা, উচ্চু জমি চাষ করার জন্যে আমার ডাক পড়ে। কারন অল্প জমিতে ট্রাক্টর চালাতে পারে না, সেই কারণে আমার ডাক পড়ে। আনেক সময় অনেক দুরে গিয়েও হাল চাষ করে দিতে হয়। আমার কিছু জমি আছে যা, খুবই কম এবং উচু ওই জমিতে ট্রাক্টর যাওয়ার রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে গরুর লাঙল দিয়ে চাষ করতে হয়। আর সেই কারণে গরু পালন করে লাঙল দিয়ে চাষ করার জন্যে। আগে বাজারে গরুর লাঙল পাওয়া যেত এখন আর হাটে-বাজারে ইচ্ছা করলেই কাঠের লাঙল পাওয়া যায় না।

আগের মতো কদর থাকলে বেশ বালো হতো। তবে গ্রাম অঞ্চরের কৃষকরাও এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। অনেক সময় জমিতে গোবর পড়ে জৈব সার তৈরি করতো। এতে ফসল ভালো হতো। জেলার হাদিপুর গ্রামের মমিন হাল গরু দিয়ে তার জমি চাষ করে। তিনি জানান, আমি অর্থ-বীত্ত হীন লোক টাকা পয়সা নেই, তাই ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করাইতে পারি না, যে কারণে গরু পারন করে থাকি, আমার জমিটুকু চাষ করার জন্যে, আমার জমি চাষ করে সময় পেলে অন্যে জমিতে হাল দিয়ে থাকি এতে আমার সংসার চালানোর মতো রোজগার হয়ে থাকে। তবে ছোট্ট ট্রাক্টর এর চেয়ে গরুর রাঙর অনেক ভালো গরুর লাঙরের ফলা মাটির অনেক গভীরে যায় এতে মাটির উরর্বর শক্তি বৃদ্ধি পায় ফলে ফসল ভালো হয়। আর বর্তমানে ফসলই রাসায়নিক সারের জন্যেই উৎপাদন হচ্ছে।