• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মোটা টাকায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম)

| ঢাকা , রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৩ যুগ আগে মৃত্যুবরণ করা দৌলতি বেওয়া নামের এক নারীকে জীবিত দেখিয়ে তার নামে জমি বিক্রি ও দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা ও ক্ষোপের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে দৌলতি নেছার স্বজনরা চর রাজিবপুর থানায় দলিল লেখক নুরনবী ও দলিল গৃহিতা অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনসহ কয়েক জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছে।অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের স্ত্রী দৌলতি নেছা মৃত্যু বরণ করেণ অনেক আগে। তার নামে ০.৫৪ একর আবাদী জমির মধ্যে ০.৫০ একর জমি বিক্রি দেখানো হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। ক্রেতা হিসেবে ওই জমি গোল্ডেন লাইফ একাডেমি নামের এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল সম্পাদন করা হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন দলিল লেখক নুরনবী (সনদ নং-৩৭/২০০৭ইং)সঙ্গে যোগসাজশে ওই জালিয়াতির আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ। এতে জমির দাতা দৌলতি নেছাকে জীবিত দেখিয়ে ০.৫০ একর জমির দলিল সম্পাদন করা হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে। যার দলিল নম্বর-১৩১/২০। জালিয়াতির মাধ্যমে ওই দলিল সম্পাদন করতে সাব রেজিস্ট্রার কথা বলে ক্রেতার নিকট থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেয় দলিল লেখক, এমন অভিযোগ করছে মৃত দৌলতি নেছার পরিবার ও এলাকার জনতার মুখে মুখে। মৃত দৌলতবি নেছার স্বজন আব্দুল করিম সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, তার দাদি মারা গেছে অনেক আগে। মরা মানুষ জীবিত কইরা ক্যামন করে আমার দাদির জমি কবলা অইল? আমি এর বিচার চাই। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি,সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে নকল উঠিয়ে দেখন ঘটনাটি সত্য। সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম সঙ্গে বললে তিনি তাদের জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। ঘটনাটি সত্য হলে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে তাদের শান্তনা দেন। মৃত্যু সনদ দেখে ও এলাকাবাসীর নিকট থেকে জানা গেছে দৌলতবি নেছা প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা গেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে দলিল লেখক নুরনবী সাংবাদিকদের জানান, আমি এত কিছু জানতাম না। ক্রেতা আমাকে কাগজপত্র দিয়েছে আমি দলিল করে দিয়েছি। আমাকে খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। জালিয়াতি করে কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জমি ক্রয় করলেন এ বিষয়ে ক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, আমি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে চাচ্ছি। সে জন্য জমির দরকার জমি ক্রয় করেছি। আর মালিকদের সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে ,সে ব্যাপারে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর সাব-রেজিস্টার নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি আগে জানতাম না । এখন যখন জেনেছি আমি কথা দিচ্ছি দলিল লেখকের নিবন্ধন বাতিল সহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর থারার অফিসার ইন চার্জ মো. গোলাম মোর্শেদ তালুকদার জনান,আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।