• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

সিএএবিরোধী বিক্ষোভ

মুম্বাইয়ে আজাদ ময়দানে লাখো মানুষ

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত সংশোধনী আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও জাতীয় আদমশুমারি (এনপিআর)-এর বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আজাদ ময়দানে লাখো মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এর মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সমাবেশে বিখ্যাত উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের জনপ্রিয় কবিতা ‘হাম দেখেঙ্গে’ (আমরা দেখে নেব) আবৃত্তি করা হয়। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

‘মহা মোর্চা’ নামের এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে দেশটির ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট দ্য সিএএ, এনআরসি অ্যান্ড এনপিআর’র মহারাষ্ট্র শাখা। মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীরা এতে অংশ নেন। মুম্বাই থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ছিলেন। এ বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বায় দেশটির সাবেক বিচারপতি কলসে পাতিল, অধিকার অন্দোলনকর্মী তিস্তা সেতালভাদ, অভিনেতা সুশান্ত সিং, সমাজবাদী পার্টি নেতা আবু আসিম আজমিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের তিন রঙের পতাকা উড়িয়ে ও হাতে সিএএ, এনআরসি, এনপিআর’র বিরোধিতা করে স্লোগান লেখা ব্যানার ছিল তাদের হাতে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘মোদি, শাহ সে আজাদি’ (মোদি ও শাহ থেকে মুক্তি) এবং ‘সিএএ ও এনআরসি থেকে মুক্তি’। নারী বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ছিল, আমরা হলাম ঝাঁসির রানি ও মাতা জিজাউয়ের মেয়ে। এ সময় চলমান সংসদ অধিবেশনে নতুন নাগরিকত্ব আইন পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান তারা।

এদিকে রাজধানী দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পুলিশি হামলার দুই মাস পুরনো একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বেশ কয়েকজন পুলিশকে লাইব্রেরির পাঠকক্ষে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের পেটাতে দেখা গেছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংগঠন জামিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিল জামিয়ার শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও শিক্ষার্থীদের লাঠি পেটা করে।

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতেও চড়াও হয় পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো রিডিং হলে (এমফিল সেকশন) বসে আছে, পুলিশ ঢোকার আগে ডেস্কে বসা এক ব্যক্তি ডেস্কের নিচে লুকানোর চেষ্টা করছে আরেকজন আশপাশে ছুটাছুটি করছে।

এ সময় রায়ট গিয়ারে সজ্জিত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হঠাৎ কক্ষটিতে প্রবেশ করে, আড়াল নেয়ার চেষ্টারত শিক্ষার্থীদের বেদম প্রহার করে। পুলিশের তা-ব চলাকালে কিছু শিক্ষার্থী দৌড়ে বের হয়ে যায়। ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সময় আহত এক শিক্ষার্থী পরে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ক্যাম্পাস থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই একই দিন রাতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। সেখানেও শিক্ষার্থীদের লাঠি পেটা করে ও তাদের বিরুদ্ধে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

এ দুটি ঘটনার জেরে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীরা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রতিবাদ শুরু করে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি শক্তি ব্যবহারে উদ্বেগ জানায় হাভার্ড, অক্সফোর্ডসহ বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কেবলমাত্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে গত বছরের ডিসেম্বরে আইন সংশোধন করেছে ভারত।