• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মুজিববর্ষে সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ পেল দুর্গম ৪ চরাঞ্চল

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

| ঢাকা , সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেল শরীয়তপুরের বিচ্ছিন্ন চারটি চরের মানুষ। গতকাল চরআত্রা আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। প্রথম পর্যায়ে চরআত্রা ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫শ’ গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ২০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। এ জন্য ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৩ কেভির একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিরতণ উদ্বোধনের পর সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এটা চরবাসীর জন্য উপহার। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়নই আজকের এই শুভক্ষণ। চরাঞ্চলের সব ধরনের উন্নয়নের ছোঁয়া এখন লাগতে শুরু করেছে। আগামীতে চর হবে একটি উন্নত এলাকা। সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, পুলিশ সুপার এসএম আশ্রাফুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, পল্লী বিদ্যুতের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী এএইচ জয়নুল আবেদীন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শরীয়তপুরের মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত ছোট-বড় অসংখ্য চর। এসব চরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এসব চরে পৌঁছায়নি আধুনিক নাগরিক সুবিধা। চরে বিদ্যুৎ আসবে, কিছুদিন আগেও যা ছিল কল্পনাতীত। সেই চরেই জ্বলবে বাল্ব, আলোকিত হবে চারদিক। নদীবেষ্টিত হওয়ায় এসব এলাকার জমি উর্বর। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় নেই কোন হিমাগার। চরগুলোতে কিছু জাহাজ নির্মাণের ডকইয়ার্ড গড়ে উঠলেও বিদ্যুতের অভাবে গতি নেই কাজে। তবে, এবার সেসব সমস্যা ঘুচবে, এমন আশাবাদ চরবাসীর। সাবমেরিন কেবলের ও সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে তিন জেলার ১০টি ইউনিয়নে। শরীয়তপুরের চারটি ইউনিয়ন নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওয়াপাড়া, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা। চাঁদপুরের চারটি ইউনিয়ন সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর, উত্তর মতলব উপজেলার মোহনপুর, একলাসপুর ও জহিরাবাদ এবং মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ির হাসাইল ইউনিয়নের অংশবিশেষ ও লৌহজং উপজেলার কেউটিয়া ইউনিয়ন। মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ থেকে নড়িয়ার নওয়াপাড়া পদ্মা নদীর এক কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে সাবমেরিন কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। শরীয়তপুরের পদ্মা নদীর তীর থেকে চরগুলোর দূরত্ব কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার।