• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সামনে বড় গর্ত পাউবো ঠিকাদারের : হুমকিতে ঘর!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বাগেরহাট

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বাগেরহাট : মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সামনে এভাবেই মাটি কেটে গর্ত করেছে পাউবোর ঠিকাদার -সংবাদ

বাগেরহাটে একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তার বসত ঘরের সামনে মাটি কেটে গত করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার। ফলে মুক্তিযোদ্ধার বসত ঘরটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে এবং ঘরে যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান সরদার বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নরে গোবরদিয়া এলাকার বাসিন্দা অসহায় এবং সরকারী ভাতাভোগি মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান সরদারের বসতবাড়ীর সামনে থেকে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার অ্যাক্রভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ভেঁড়িবাদে দিয়েছে। জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও একটি বসতঘরের ক্ষতি করে তো মাটি কেটে নেয়া ঠিকনা। এরপর তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। যেখানে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে স্বাধীনতা বিরোধী কোন চক্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই কাজের সাইডে থাকা এসও কে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কে দিয়ে বসতঘরের সামনে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়েছে। যা চরম অমানবিক। ঘটনাটি সরকারিভাবে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান সরদার বলেন, গোবরদিয়া এলাকায় মাত্র ৭ শতক জমি ক্রয় করে আমি বসতবাড়ি করেছি। বাড়ির সামনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জমি আমি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি। ওই জায়গার একপাশ থেকে ওয়াবদার ভেড়িবাদ নির্মান হচ্ছে। মেসার্স সাঈদ এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই ভেড়িবাদের কাজ করছে। আমার বসতবাড়ির যাতায়াত পথ ঠিক রাখতে হলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবং সাইডে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর এসও অনৈতিক অর্থ দাবি করে। এতে আমি রাজি না হওয়ায় এলাকায় আমার শত্রু পাউবোর জমি জাল দলিলকারী জনৈক আজিজুর রহমানের পরামর্শে আমার বসতঘরের সামনে বিশাল গর্ত করে মাটি কেটে নেয়। এ সময় আমি অনেক অনুরোধ ও অনুবিনয় করেছি আমার কোন কথাই তারা শোনেননি তারা। বরং আমাকে গালমন্দ করেছে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ঠিকাদারের ওই কর্মীকে মোবাইল করলে সে ফোন ধরেনি। এখন আমার যাতায়াত পথ বন্ধসহ বসতঘরটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উপায়ন্তর না পেয়ে পরের দিন গত বুধবার আমি জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাঈদ এন্টার প্রাইজে কর্মরত আফতাব সাঈদ খান সাংবাদিকদের বলেন, ওখানে মুক্তিযোদ্ধার কোন জায়গা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাদ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে সীমানা দেয়া জায়গা থেকেই মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, প্রথমে ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। পরে জানতে পেরে আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরে যাওয়ার পথ করে দিয়েছি। আর এ ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক করে থাকলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।