• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

মাগুরায় নদী দখল করে বাসস্ট্যান্ড : ঘুমিয়ে পাউবো!

সংবাদ :
  • রূপক আইচ, মাগুরা

| ঢাকা , বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মাগুরা : শ্রীপুরের প্রবেশমুখে কুমার নদ দখল করে নির্মাণাধীন বাসস্ট্যান্ড-সংবাদ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের প্রবেশমুখে কুমার নদের ওপর ব্রিজ-সংলগ্ন নদীর দখল করে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন কাউন্সিলের উদ্যোগে কুমার নদী দখল করে গড়ে তোল হচ্ছে এ পরিবহন স্ট্যান্ড। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে নদী ভরাট কাজের অর্থ জোগান দিচ্ছে। ব্রিজ রক্ষার ব্লক উঠিয়ে ও ব্রিজের নিচে কুমার নদে ড্রেজিং করে এখানে মাটি ভরাটের কাজ করায় ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়বে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের দাবি নদী দখল নয় বরং উপজেলা শহর থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে করা হোক এ স্টান্ড। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি এটিএম আনিসুর রহমান জানান- যেখানে সরকার নদী বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন করছে সেখানে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে কোন ভাবেই পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। একই রকম মতামত পোষন করেন ওই এলাকার একাধিক জনগণ। শ্রীপুরের তারাউজিয়াল গ্রামের রওশন মোল্যা, সদরের মতিন রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বাস স্ট্যান্ড করতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ নদীটি হত্যা করলে হিতে বিপরীত হবে। বরং নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদীটি সংস্কার জরুরি। বাস স্ট্যান্ড এখানথেকে সরিয়ে খামারপাড়া অথবা শ্রীপুর উপজেলা শহরের দক্ষিণ অংশে করা হোক। এতে নদীও রক্ষা পাবে আবার শহরটিও যানজট মুক্ত হবে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন কাবির জানান, স্থানীয় জনগণের চাহিদার প্ররিপ্রেক্ষিতে এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাগুরা জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম বলেন, জনকল্যাণে এমন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে মরা নদীর কোন ক্ষতি হবে না।

অন্যদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার জাহান সুজন এমন কাজে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, আমি আপনাদের কাছেই প্রথম শুনলাম নদী ভরাটের কথা। আমি ঘটনাস্থল প্ররিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেব। উল্লেখ্য, জেলায় জেলায় মোট ৩০৬ কি. মি. নদী রয়েছে। ইতিমধ্যে নবগঙ্গা নদী ৪৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ১১ কি.মি. খনন সম্পন্ন হয়েছে। হানুনদী নাম একটি নদী ভরাট হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসায় সরকারিভাবে নদীটি খনন করার কাজ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলার অন্যতম বড় নদীটির বুকে এ ধরনের ভরাট কার্যক্রম নদীটির মৃত্যু নিশ্চিত করবে বলে জানান স্থানীয়রা।