• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মহম্মদপুরের বালিদিয়া গ্রাম পুরুষশূন্য

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মাগুরা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সাবেক এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া গ্রাম এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। একদিকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশুন্য বালিদিয়া গ্রাম, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাংচুর এবং লুটপাটের ভয়ে প্রতিদিনই বাড়ি ছাড়া কোন না কোন পরিবার। ভয়ে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছে স্বজনদের বাড়িতে। মাঠে কাজ করতে না পারায় বহু ফসলি জমি পরিত্যাক্ত পড়ে আছে ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বালিদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ মিনা এবং বালিদিয়া গ্রামের ইউনুস শিকদারের মধ্যে গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ অনেক আগে থেকেই চলে আসছিল। মফিজ মিনা সমর্থক সাবেক পুলিশ সদস্য ইউনুস শিকদারের দলে যোগদান করায় দ্বন্দটি আবার নতুন করে জেগে ওঠে। যে কারণে বালিদিয়া গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ মোল্যা গত ১৩ই জানুয়ারি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর, পাটকাঠি ও খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হত্যা পরবর্তীতে গণগ্রেফতার ও প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে মফিজ মিনার সমর্থকরা এলাকা ছাড়া। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ইউনুস শিকদার সমর্থকরা মফিজ মিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলার কারণে তাদের প্রায় সাড়ে ৩০০ জনের নামে মামলা হওয়ায় উভয় পক্ষ এখন গ্রামছাড়া।

সরেজমিনে গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বালিদিয়া গ্রামের পুরুষেরা গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপন আছেন। মামলার ভয়ে বেশিরভাগ বাড়িছাড়া। বৃদ্ধ নারী ও শিশুরা বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন। তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। ক্ষেতখামার চাষবাস বন্ধ।

সেখানে দায়িত্বে থাকা মহম্মদপুর-শালিখা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হাসান শুভ্র জানান, গত জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে হত্যাকান্ডের পর হামলা ভাঙচুরের পাশাপাশি ৩৭ জনের নামে মামলা হওয়ায় দু’পক্ষই থেমে ছিল। হঠাৎ করে ফেব্রয়ারির ৩ তারিখে মফিজ মিনার কিছু লোককে ইউনুছ শিকদারের দলে যোগদান করিয়ে রাতে খাওয়া করায়। পর তাদের সঙ্গে নিয়ে ইউনুছ শিকদারের লোকেরা নতুন করে মফিজ সমর্থকদের আরো কিছু বাড়ি ঘর ভাঙচুর করতে শুরু করে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। বালিদিয়ায় হত্যা, ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।