• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

প্রভাবশালী চক্রে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে বড়লেখার টিলা!

সংবাদ :
  • অসিত রঞ্জন দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : এস্কেভেটর দিয়ে এভাবেই কাটা হচ্ছে টিলা -সংবাদ

সরকারের কাজের দোহাই দিয়ে বড়লেখায় চলছে পাহাড়-টিলা কাটা। প্রকাশ্যে এক্সভেটরে বেআইনীভাবে প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীবর রয়েছে। নির্বিচারে পাহাড়-টিলার মাটি কাটায় এর প্রভাব পড়ছে ইসিএভুক্ত বিশাল হাকালুকি হাওরেও।

জানা যায়, প্রভাবশালী টিলা খেকোরা এবার রেলওয়ের উন্নয়নকাজের দোয়াই দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন টিলা ধ্বংস করে মাটি বিক্রি করছে মধ্যসত্ব ভোগীরা। টিলা খেকো চক্রটি প্রশাসনের সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামে ডোনেশন দিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আড়ালে পরিবেশ ধ্বংস করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভারী যানবাহনে অবৈধভাবে টিলার মাটি পরিবহন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট। ধুলোয় ধুলিময় হয়ে উঠে এলাকা। শিক্ষার্থী, পথচারী ও এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগ পোহালেও টিলাখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

ভুক্তভোগীরা জানান, ৬ জানুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন টিলা কাটা বন্ধ থাকে। কিন্তু জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে চক্রটি পুনরায় শুরু হয় টিলা কেটে মাটি বিক্রি।

সরেজমিনে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোড়ারগুল গ্রামের রফিজ আলী, ছওয়াব আলী, আব্দুল লতিফ, চেরাগ আলীর টিলা এক্সাভেটরে কাটতে দেখা গেছে। মাটি পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে ৬টি বড় ট্রাক ও ৩টি ট্রাক্টর। প্রভাবশালীরা দম্ভোক্তি করে বলে ইউএনও, ওসি, সাংবাদিক এমনকি স্বয়ং পরিবেশমন্ত্রীও টিলা কাটা বন্ধ করতে পারবেন না।

গাড়ী চালক শরীফ উদ্দিন ও জুলহাস মিয়া জানান, রেলের উন্নয়ন কাজে মাটিগুলো নেয়া হচ্ছে। টিলার মালিক রফিজ আলীর স্ত্রী আমিনা বেগম জানান, সরকারের লোকজন টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন। অনুমতি রয়েছে বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পাহাড়-টিলা কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জানান, পরিবেশ আইনে পাহাড় টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধভাবে টিলা কাটার অপরাধে ইতোমধ্যে বড়লেখার ৫ ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও খবর পাওয়া গেছে। রেলওয়ের উন্নয়নের কাজের জন্য হলেও রেলওয়ের কাজে নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সব নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় মাটি কাটার কাজ করবে। এর বাইরে পাহাড়-টিলা কেটে মাটির বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে তিনি জানান।