• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শীঘ্রই

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

| ঢাকা , রোববার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

পটুয়াখালী : পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র -সংবাদ

পায়রার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে প্রথম ইউনিট। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ওই দিন বেলা ১১টায় পায়রা-গোপালগঞ্জের সঞ্চালন লাইন সফলভাবে চালু করার মাধ্যমে প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। প্রায় ১৩৬ কি.মি. দীর্ঘ ডবল সার্কিটের হাই ভোল্টেজ লাইনটি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পটুয়াখালী সদর হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলায় নব নির্মিত ৪০০/২৩০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আরও জানান, কয়লা ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণত ১০ বছর আগে প্রকল্প চালু করা অসম্ভব। অথচ বাংলাদেশ অর্ধেকেরও কম সময়ের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগে এ ধরনের প্রযুক্তিতে কেন্দ্রটি উৎপাদনে গিয়ে বিশ্বের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্ববৃহৎ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন বলে তারা জানান।

২০১৪ সালের ৯ জুন চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে ‘পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ জন্য এক হাজার ২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৫ পরিবারকে ১৬ একর জমির ওপরে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নামে আবাসিক পল্লী নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। চীনের নর্থইস্ট পাওয়ার কোম্পানি (এনইপিসি) কেন্দ্রটির ঠিকাদার নিযুক্ত হয়ে এর অবকাঠামোসহ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ বৃহৎ প্রকল্পের পুরো নির্মাণ কাজ ২০২২ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে পরে আরও একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক, তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের এলএনজিভিত্তিক, ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ এবং ৫০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ‘প্রথম দিন ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। প্রতিদিনই ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে। সর্বশেষ প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ্ আবদুল মওলা বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরোটাই বানিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আমরা আশা করছি। পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন সফলভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারছি।

তিনি আরও জানান, পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ৯৪ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামি জুন মাসে কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পুরোটাই উৎপাদনে যাবে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ৭ সেন্টের কাছাকাছি দামে বিক্রি করতে পারব, যেটা অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় কম বলে জানান তিনি।