• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

নড়িয়া সেতু কয়েক দফা সময় বড়িয়েও অগ্রগতি ৩০ শতাংশ!

ভেঙে পড়েছে ৩ জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য

সংবাদ :
  • কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

শরীয়তপুর : নির্মাণাধীন ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নির্মাণাধীন সেতু -সংবাদ

নড়িয়া উপজেলার ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিন বছর ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ। ভারী যানবাহনগুলো শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা হয়ে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে। এতে চরম দুর্ভোগ পড়েছে নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। ভেঙ্গে পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্য। আগের সেতুর পাশ দিয়ে নির্মাণাধীণ নতুন সেতুর কাজে ধীরগতি। কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করেও অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৯৭- ৯৮ অর্থবছরে কির্তীনাশা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা সেতু। সেতুটি পারাপার হয়ে নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার মানুষ জাজিরা হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। ব্যবসায়ীরা পন্য পরিবহন করে থাকেন। ২০১৫ সালে সেতুর পূর্ব প্রান্তের পিলার আর সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের যান চলাচল। শুধু মানুষ পারাপারের জন্য মূল সেতুর সঙ্গে বেইলী সেতু স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে দেয়া হয়েছে লোহার ব্যারিকেড।

এলজিইডি শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতুর স্থলে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। আগের সেতুর পাশ দিয়ে ১৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যে ওই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুনে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে।

নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটা বন্ধ হওয়ার পর থেকে বেচা বিক্রি কমে গেছে। পণ্য পরিবহন নিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে আছি। ব্রিজের পশ্চিম পাশের ৪টি ইউনিয়নের মানুষ এখন বাজারে আসে না তারা অন্য সব বাজার থেকে মালামাল কিনে থাকেন। এমন অবস্থা থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

বরকত হোসেন মুরাদ বলেন, একমাত্র ঠিকাদারের গড়িমশির কারণে কাজের এমন দশা। বছরের পর বছর সময় পার হচ্ছে কিন্তু দুইটা পিলার ছাড়া আর কিছুই হয় নাই। চার পাঁচজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে এতে এক যুগেও ব্রিজের কাজ শেষ হবে না। কেউ দেখার নাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আবুল হাশেম বলেন, কাজের শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ি। বন্যার কারণে কাজ বন্ধ থাকে। এছাড়া জমি নিয়ে নানা জটিলতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী পুরনো ব্রিজ ভাঙ্গা ছাড়া কাজ করা যাচ্ছে না। সব মিলে কাজ দেরি হচ্ছে। তবে এখন থেকে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব।

শরীয়তপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান ফরাজী নতুন সেতুটি নির্মাণে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে বলেও স্বীকার করেছেন। তবে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার নেয়া হয়েছে বলে জানালেন এলডিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী।