• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাড় ১৪২৮ ৩ জিলকদ ১৪৪২

দুই শিক্ষালয়ের প্রধান একজন : দুর্নীতিতে তদন্ত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, তারাকান্দা (ময়মনসিংহ)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ময়মনসিংহের তারাকান্দা ধারাকান্দি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ও ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষের দায়িত্বে পালন করছেন একজন। তার নাম হোসেন আলী চৌধুরী। গত ১০ বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করছে। তাছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা প্রকার অনিয়মের অভিযোগ। জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের অনুমতি ছাড়াই ধারাকান্দি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তর করে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ৬ মাস পূর্বে বিদ্যালয় স্থান থেকে ৪-৫শ’ গজ দূরে অন্য জায়গায় ১টি টিনসেট গৃহ নির্মাণ করে প্রধান শিক্ষকের খেয়াল খুশিমতো বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে পূর্বের মূল্যবান জমি, পাকা বিল্ডিং কুক্ষিগত করার পর্বটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এটা বিধি সম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি জবাব এড়িয়ে যান। জানা গেছে, গত ২০০৯ সাল থেকে তিনি মহিলা কলেজের হাজির পাঠদান না করে অধ্যক্ষ হিসেবে সরকারি বেসরকারি বেতন ভাতা তুলছেন। কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. আনিসুর রহমান জানান, ২০১৪ সালে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর সরকারি বেতন ভাতা ছাড়া কলেজ পক্ষ হইতে মাসিক ৩ হাজার টাকা বেতন প্রভাষক হিসেবে আনিসুর রহমান নিয়োগ পান।

২০১৬ সালে কলেজ শাখায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি জানান, কলেজের এমপিওভুক্তির নামে অধ্যক্ষ তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন। কলেজ এমপিওভুক্ত হয়নি। হঠাৎ করেই ২০১৯ সালে স্বরস্বতী নামের এক নারীকে ২০১৪ সালে নিয়োগ দেখিয়ে আনিসুর রহমানের স্থলে স্বরস্বতীকে বহাল করতে চান অধ্যক্ষ। আনিসুর রহমানকে কলেজে আসতে নিষেধও করেছেন তিনি। স্বরস্বতী ২০১৪ সালে ১২তম নিবন্ধন ধারী, সে ২০১৪ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি যদি কলেজে না আসেন তাহলে এমপিওভুক্তির জন্য নেয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়া হবে। কথা না নামলে টাকা দেয়া হবে না। সরকারি লাইব্রেরিয়ান সাবিনা ইয়াসমিনের অভিযোগ, ২০১৪ সালের ৭ জুন অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র লাভ করেন । এতে সরকারি বেতন ভাতা ব্যতীত কলেজের পক্ষ থেকে তাকে ১ হাজার টাকা বেতনের শত আছে।

সরকারি লাইব্রেয়িয়ান পদে যোগদান করে এ যাবত কাজ করে আসছেন। অধ্যক্ষ তাকে কলেজে না আসার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এদিকে কলেজের ৩৫ শিক্ষক কর্মচারী উপজেলার তারাকান্দা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে বলা হয় এমপিওভুক্তির জন্য টাকা দিতে হবে মর্মে তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা আদায় করে নেন অধ্যক্ষ। কিন্তু কলেজ এমপিওভুক্তি হয়নি। জানা গেছে, একই পদে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। কলেজ থেকে প্রতিবছর ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, ফরম পূরণ বাবদ উত্তোলিত টাকা অধ্যক্ষ একাই ভোগ করছেন। অদৃশ্য গবর্নিং বডি নিয়োগ বাণিজ্য ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ২ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হোসেন আলী চৌধুরী কলেজের ক্লাস রুমকে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সরকারি সার্টিফিকেট ও নম্বরপত্র বিতরণ কালে ৫শ টাকা করে ১ হাজার টাকা আদায় করে চলেছেন। অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সূত্র জানায়, নির্বাহী অফিসার দু’পক্ষে নোটিস করে, দুই পক্ষের উপস্থিতিতে গণশুণনি করেন। দু’পক্ষের মধ্যে একটি মুচলেকাও হয়। ইতোপূর্বে নির্বাহী অফিসার সারমিন সুলতানা, উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত এগুইনি। প্রধান তদন্ত কর্তা বলেন সব কথা বলা যায় না। তার ভাষায় তিনি চাপে আছেন বলে জানান।