• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

দরপত্র ছাড়াই সড়কের ৫ শতাধিক গাছ কর্তন!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

| ঢাকা , সোমবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : নাকাই এলাকায় এভাবেই কর্তন করে ফেলে রাখা হয়েছে সড়কের গাছ -সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নে এবারো দরপত্র ছাড়াই পাঁচ শতাধিক গাছ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকার নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের উত্তর ডুমরগাছা গ্রামের শাহারুল ইসলামের বাড়ি হতে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের দু’পাশে ডুমরগাছা আদর্শ যুব সংঘের উদ্যোগে এক যুগ আগে ইউক্যালিপটাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু গাছ কর্তনে ওই সমিতির সভাপতি রজিবর রহমান কোন প্রকার নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী মোত্তালিব এর নিকট সাড়ে চার লাখ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করে দেন। স্থানীয়রা এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ব্যাপারী মোত্তালিব গত দু’দিন ধরে গাছা কাটা অব্যাহত রেখেছে। অনিয়ম করে গাছকাটার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সরেজমিন গেলে স্থানীয় ডালেস নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তিনি বলেন কারো বাবার ক্ষমতা আছে যে গাছকাটা বন্ধ করতে পারে। সবাই টাকা খেয়েছে। এভাবেই সারা উপজেলার গাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কাঠ ব্যবসায়ী মোত্তালিব জানান, সমিতির সভাপতি রজিবর রহমান আমার কাছে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি সব দেখভালো করবেন বলেও আমাকে জানানো হয়। আমার কোন জোর নেই। বাধা পেলে আমি লোকজন নিয়ে এখান থেকে চলে যাব।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, বিষয়টি আমরা জানার পর ওই ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তার এমন বক্তব্যের পরও গাছকাটার উক্ত ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তারা নির্দিধায় গাছকাটা অব্যাহত রেখেছে। দরপত্র ছাড়াই গাছকাটার ব্যাপারে নাকাই ইউনিয়নের চেয়াম্যান আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি গাছকাটার বিষয়ে জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরও জানান আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম্য পুলিশকে পাঠিয়েছি যেন কর্তন করা গাছগুলো তারা নিয়ে না যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এত গাছ প্রশাসনকে না জানিয়ে কাটার সাহস হয়নি। অবশ্যই সবাইকে অবগত করার পর গাছগুলো কাটা হচ্ছে।

ওই সমিতির সভাপতি রজিবর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে সটকে পড়েন। ফলে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।