• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

জীবনের পরতে পরতে সংগ্রাম করে সফল উদ্যোক্তা রাফেজা

সংবাদ :
  • নুরুল আমিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : নিজের প্রতিষ্ঠান সপ্তরাঙ্গায় পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাফেজা আক্তার -সংবাদ

অদম্য ইচ্ছা, নিরলস পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে একজন সাধারণ নারীও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। ময়মনসিংহের ফুলপুরের রাফেজা আক্তার তেমনি একজন আত্মপ্রত্যয়ী নারীর নাম। সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে কথাটির সার্থক রূপ দিয়েছেন তিনি। এলজিইডি নারীদের প্রকল্পের সোসিও জেন্ডার ডেভেলপমেন্ট এর পক্ষ থেকে এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের যে তিনজন আত্মনির্ভরশীল নারীকে সম্মানিত করা হবে। রাফেজা আক্তার তাদের একজন। আগামী ৮ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সম্মাননা ক্রেস্ট হস্তান্তর করা হবে বলে জানান সংস্থাটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রব । সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে জীবনের পরতে পরতে যুদ্ধ করতে হয়েছে তাকে। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের এক নিম্নœবিত্ত পরিবারে রাফেজার জন্ম। ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়ে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হবেন। তা আর হয়নি, মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে তার বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন ট্রাক ড্রাইভার এর সঙ্গে। ফুলপুর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক ড্রাইভার এর স্ত্রী হন রাফেজা। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই একে একে পাঁচ সন্তানের মা হন রাফেজা। ড্রাইভার স্বামীর আয় দিয়ে স্বামী স্ত্রী ও সন্তান মিলে ৭ জনের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অভাব আর অনটন হয়ে ওঠে সংসারের নিত্যসঙ্গী। এমন পরিস্থিতিতে রাফেজা তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি ধারণ করে বাঁশ-বেতের কাজ, নকশি কাথা সেলাই আর ক্রিস্টাল দিয়ে বিভিন্ন শোপিস বানানোর কাজ শেখার চেষ্টা করতে থাকেন। তার হাতে বানানো পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে স্বামীর সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন। এরইমধ্যে কোন এক সন্ধ্যায় স্বামীর দুর্ঘটনার খবর আসে। দীর্ঘ ৬ মাস হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পঙ্গুত্ববরণ করে বাড়ি ফেরে স্বামী। তখন থেকে পুরো সংসারের দায়ভার পড়ে তার ওপর। প্রথমে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ধার কোরে ক্রিস্টাল দিয়ে শোপিস বানানোর গতি বাড়িয়ে দেন। পাথর, পুতি, মতি, মুক্তা ও ক্রিস্টাল দিয়ে বানানো রংবেরঙ্গের শোপিস পণ্য বিক্রি বাড়তে থাকে স্থানীয় বাজারে। এক পর্যায়ে পাড়া মহল্লা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে ঢাকার মার্কেটে তার শোপিসের কদর বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে পুঁজি ও আয়। এরইমধ্যে ফুলপুর পৌর মেয়র আমিনুল হক তাকে যুক্ত করেন স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত নবিদেব প্রকল্পের সঙ্গে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রাফেজা এখন স্বাবলম্বী। ফুলপুর পৌর এলাকায় নিজের ক্রয় করা ৪ শতাংশ জমিতে বাসা নির্মাণ করেন। তার একটি কক্ষে গড়ে তোলেন সপ্তরাঙ্গা কুটির শিল্প নামে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। বড় মেয়ে জাহানারা আক্তার বিউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বড় ছেলে রাশেদুল আলম সুজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। মেজো ছেলে রাকিবুল আলম সুমন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাস করে চাকরির সন্ধান করছে। ছোট ছেলে রিয়াজুল আলম রাজন এইচএসসিতে পড়ে। আরেক ছেলে রাশেদুল আলম ইমন বাবার পেশাটাকে পছন্দ করে ড্রাইভার হয়েছে। রাফেজা জানান কোন আনুদান বা সহজশর্তে ঋণ পেলে তার কুটির শিল্পের পরিধি বাড়িয়ে এলাকার অনেক বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থান করতে পারবেন তিনি। এলাকার বাসিন্দা মানবাধিকার কাউন্সিল ফুলপুর পৌর শাখার সমন্বয়কারী আবু সাঈদ জানান, রাফেজার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক মহিলা ইতোমধ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে যার কাছ থেকে হাতের কাজ শিখে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে।