• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ ২৫ জিলহজ ১৪৪২

ঘিওরের তেরশ্রী ডিগ্রি কলেজ ৪৯ বছরেও সরকারি হয়নি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মানিকগঞ্জ : ঘিওরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তেরশ্রী ডিগ্রি কলেজ -সংবাদ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজটি স্বাধীনতার ৪৯টি বছর অতিবাহিত হবার পরেও সরকারিকরণ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি অগ্রসরমনা তেরশ্রীতে প্রথম কলেজ হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি নিয়ে মানিকগঞ্জবাসী ১৯৪২ সালে তেরশ্রী কলেজ, মানিকগঞ্জ নামে প্রতিষ্ঠিত করেন। মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পারিবারিক চিকিৎসক স্বনামধন্য ডা. মন্মথ নাথ নন্দী (ডাক্তার এম. এন. নন্দী) তেরশ্রী স্টেটের সাবেক প্রয়াত জমিদ্বার সিদ্বেশরী প্রসাদ রায় চৌধুরীসহ এলাকার শিক্ষানুরাগী হিতৈষী ব্যক্তিদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ব্যাপক আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করেন।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঢাকা-মানিকগঞ্জ- টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত সবুজ ছায়াঘেরা নয়নভিরাম পরিবেশে নিজস্ব ১০ একর জমির ওপরে স্মৃতি বিজোরিত তেরশ্রী কলেজটি প্রতিষ্ঠিত। পাশেই একাডেমিক আইসিটি ও দৃষ্টিনন্দন প্রশাসনিক ভবন, সুবিশাল খেলার মাঠ, পুকুরসহ একটি লেক আছে। অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় কাঠ ও ফলজ বৃক্ষের বৃক্ষের সমাহারে পুরো ভবনটি চারপাশ ঘেরা। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসা শিক্ষা এবং বিএম শাখায় তিনটি ট্রেডসহ স্নাতক পাসকোর্স বিএ/বিবিএস কোর্স চালু আছে। নিজস্ব ১টি মসজিদ, ২টি বিশাল পুকুর, ১৮টি দোকান বিশিষ্ট মার্কেট ১টি ছাত্রাবাস আছে। অধ্যক্ষের কোয়াটারসহ ১টি টিনশেড বিল্ডিং, ২টি দ্বিতলা একাডেমিক ভবন আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরেও অনার্স কোর্স খোলা হয়নি। ফলে এলাকা গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মহাদেবপুর, মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিএম ভবন, কম্পিউটার প্রয়োজনীয় ও আসবাবপত্র নেই। কলেজের পুরাতন ভবনগুলেসহ পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদ অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানের বাসভবনটিও আজ পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয়নি। এছাড়া বাউন্ডারি ও গেট জরুরি প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ২৬ জন। ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জেলার সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে প্রশংসা অর্জন করে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কয়েকবার চ্যাম্পিয়ান হয়। কলেটির জন্মলগ্নে বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটির মাধ্যমে ‘হারামণি মজলিশ’ নামে নিয়মিত লোক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য প্রয়াত ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, অধ্যাপক মনসুর উদ্দিন, কাজী মোতাহার হোসেন, অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস সভাপতি ড. ভবেশ নন্দী, ড. আশরাফ সিদ্দিকী ড. আনিসুজ্জামান, ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি গিয়াসকামাল চৌধুরীসহ এবং বরেণ্য আলোকচিত্র শিল্পীরা এই কলেজে আসেন। ১৯৭১ সালে ২২ নভেম্বর পাকহানাদার বাহিনী ও দেশীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় তেরশ্রী গ্রামের তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশ্বরী প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানসহ ৪৩ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে এবং পেট্রোলে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। শহীদদের স্মরণে মুত্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন উদ্যোগে ২০১২ সালে কলেজের পাশেই মহান মুক্তিযুদ্ধের দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কর হয়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই স্মৃতি স্তম্ভটি দেখার জন্য দর্শনার্থীরা আসে। বর্তমানে স্মৃতি বিজরিত ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী কলেজটিকে সরকারিকরণের এলাকার হাজার- হাজার লোকজনের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ভাষা সৈনিক আব্দুল হাকিম, তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক সমেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী এবং সাংবাদিক ও কলামিস্ট মজিবর রহমান জানান, স্বাধীনতান প্রায় ৪৮টি বছর অতিবাহিত হবার পরেও তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজটি সরকারিকরণ এবং অনার্স কোর্স চালু না করায় আমাদের এলাকার বহু শিক্ষার্থীদের বহু কষ্ট করে ঢাকা-মানিকগঞ্জেসহ দেশের বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। এলাকার অনেক অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের পড়ালেখা চালাতে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছে। তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজোরিত ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় জানান, কলেজটি জেলার প্রথম কলেজ। দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অনার্স কোর্সসহ সকল প্রকার উন্নয়ন করা হবে এবং সরকারি করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল শুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক মহল অবিলম্বে কলেজটি সরকারি করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।