• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

কলেজের পাশে অবৈধ ইটভাটা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দেড় হাজার শিক্ষার্থী

সংবাদ :
  • মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নোয়াখালী

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

নোয়াখালী : নোয়াখালী চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজের পাশেই গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটা -সংবাদ

নোয়াখালী চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজের পাশেই গড়ে উঠা অবৈধ ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলোবালিতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে দেড় হাজার শিক্ষার্থী। এ ভাটার কারণে প্রতিদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষি জমি, আবাসিক, সংরক্ষিত বাণিজ্যিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কিলোমিটনার, বনাঞ্চল থেকে ২ কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক থেকে অন্তত আধাকিলোমিটার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। তাছাড়া ইটভাটার চুল্লির মাপ, কয়লা ব্যবহার ও শিশুশ্রমের বিষয়েও আইনে উক্ত আইনে বলা আছে। কিন্তু এসব আইনের তোয়াক্কা না করে নোয়াখালী সদর পশ্চিমাঞ্চলের চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজের ভবনের পাশেই বহ্মপুর আবদুল মালেক বিক্সস-২ (এ.এম.বি) নামে ভাটা নির্মাণ করে ইট প্রস্তুত ও বিক্রি করছেন ১নং চর মটুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো.কামাল উদ্দিন বাবলু।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পরিবেশ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীতে ১৬০টি ইটের ভাটার মধ্যে ৬৪টি ভাটা অবৈধ তালিকাভুক্ত হিসেবে রয়েছে। তার মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলা চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ব্রহ্মপুরের আ. মালেক ব্রিকস-২ টিও অবৈধের তালিকায় রয়েছে এবং এদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ভাটা নির্মাণ ও সরকারের কোটি টাকার রেভিনিউ ফাঁকি দিয়ে ইট প্রস্তুত ও পুড়িয়ে ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য নোয়াখালী পরিবেশ অধিদফতর ২০১৬ সালে এই ভাটার নবায়ন বন্ধ করে দেয় এবং অপসারণের নির্দেশ দেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলা শহরের দত্তের হাট-ওদার হাট সড়কের পাশে চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এই ভাটায় ইট তৈরির কাজ চলছে। এক দিকে ভাটার ধোঁয়া বের হচ্ছে অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। তাছাড়া ভাটার আশপাশে রয়েছে কৃষিজমি ও বাড়ি-ঘর। স্থানীয়রা জানায়, ভাটার মালিক ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হওয়ায় কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন, রবিন, রবিউল ও সাইফুল ইসলাম জানায়, আমাদের ক্লাশে বসে ক্লাশ করতে খুবই কষ্ট হয়। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলা-বালি আর ট্রাক্টরের আওয়াজে প্রায় প্রতিদিন অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, কলেজটিতে ১৫৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। এ কলেজটি কুমিল্লা বোর্ডের অন্যতম সেরা কলেজ। এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি মো. সেরাজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ভাটা সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যাপারে আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের বিভাগীয় অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আমরা সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারি। এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, অনেক নোটিস করেও অবৈধ ইটের ভাটা থামানো যায়নি। তাই এইসব অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ করা এবং শৃঙ্খলায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে ইট ভাটা করে ফসলি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ধ্বংস করতে দেয়া হবে না।